দেশের বৃহত্তম জয়পুরহাট চিনিকলে এখনও বিপুল পরিমাণ চিনি অবিক্রিত। এ অবস্থায় আগামী নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ২০১৫-২০১৬ মাড়াই মৌসুম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ফলে চিনি রাখার জায়গা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।
চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জয়পুরহাট চিনিকলে অবিক্রিত চিনির পরিমাণ ৮ হাজার ৫ শ ৯৮ দশমিক ৫ মেট্রিক টন । যার মূল্য ৩১ কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা। চিনি বিক্রি না হওয়ার কারনে সরকারের কাছ থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীন খরচ মেটানোর জন্য শ্রমিক-কর্মচারীদের ভবিষৎ তহবিল (পিএফ) থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বাকি রয়েছে দুই মাসের। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের টাকার বদলে দেয়া হচ্ছে চিনি।
চিনিকল সূত্র জানায়, বাজারে থাকা বে-সরকারিভাবে আমদানীকৃত চিনির দাম তুলনামূলক কম। ফলে ডেকট্রোজ ও কোলেস্টোলের মুক্ত হওয়ার পরেও দেশিয় চিনি বিক্রি হচ্ছে না।
বিগত চারটি মাড়াই মৌসুমের উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ চিনি অবিক্রিত থাকায় সরকার ৫৫ টাকা কেজি থেকে চতুর্থ দফা কমিয়ে ৩৭ টাকা কেজি নির্ধারণ করলেও কোন সুফল লাভ করা যায়নি। ২০১১-১২ মাড়াই মৌসুমের ৮৫৬ দশমিক ১০ মেট্রিক টন, ২০১২-১৩ মৌসুমে ৬৫ দশমিক ১০ মেট্রিক টন, ২০১৩-১৪ মৌসুমে ১,৯৯১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন ও ২০১৪-১৫ মাড়াই মৌসুমে ৫,৬৮৫ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন চিনি এখনো অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে।
চিনিকলের এক সূত্র জানায়, ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ মৌসুমের উৎপাদিত চিনি দীর্ঘ দিনেও বিক্রি না হওয়ায় রং পরিবর্তন হয়ে গেছে এবং এর গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। এ বিপুল পরিমান চিনি অবিক্রিত থাকায় বিপাকে পড়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। রমযান মাসে তুলনামূলকভাবে চিনির চাহিদা বেশি থাকে আবার দামও বৃদ্ধি পায়। সে সময় প্যাকেটজাত করে চিনি বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি। চিনির রং পরিবর্তন ও গলে যাওয়ার কারনে ক্রেতারা এ চিনি নিতে চাননি। ফলে ডিলার হওয়া সত্বেও চিনি তুলতে পারছেন না বলে জানান চিনি ব্যবসায়ী সামছুল আলম। সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ চিনি নিচ্ছে না বর্তমানে।
জয়পুরহাট চিনিকলের ৩৪ জন লাইসেন্স প্রাপ্ত ডিলার রয়েছেন। জয়পুরহাট চিনিকলের হিসাব বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে অবসরপ্রাপ্ত ৯৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও ২০১৫ সালের আগষ্ট পর্যন্ত ৩৮ জন অবসর নেয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের টাকার বদলে চিনি দেয়া হয়েছে। এসব চিনি ৩৭ টাকায় কিনে ৩২ টাকা কেজিতে বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। ফলে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছে বলে সদ্য অবসরে যাওয়া কেন্দ্র ইনচার্জ লুৎফর রহমান, ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী সামছুল আলম ও জুনিয়র করনিক আনিসুর রহমান জানান।
জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, অবিক্রিত থাকা এ সব চিনি বিক্রি করা না গেলে আগামী নভেম্বর মাসে শুরু হতে যাওয়া মাড়াই মৌসুমে চিনি রাখার জায়গা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। গত মাড়াই মৌসুমেও সাধারণ মিলনায়তন, স্কুল ঘর, অফিসার্স ক্লাবে চিনি রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
