ভারতের প্রখ্যাত লেখিকা এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহারলাল নেহেরুর ভাতিজি নয়নতারা সাহগাল সরকারের কাছে তার সাহিত্য পুরস্কারটি ফেরত দিয়েছেন। দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করতে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদেই তিনি তার সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারটি গত মঙ্গলবার ফেরত দিয়েছেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৬ সালে তিনি ঐ পুরস্কার লাভ করেন।
ন্যায়পরায়ণ এবং স্পষ্টভাষী রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্যই তিনি অধিক পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা ঘোষণা পর তখন তিনি দূঢ়ভাবে এর প্রতিবাদ করেন। সামপ্রতিক সময়ে ভারতের রাজনীতি নিয়েও তিনি বেশ সরব ভূমিকা রাখছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কুসংস্কার প্রশ্নে যারা যুক্তিবাদী, হিন্দুধর্মের বিকৃতি নিয়ে যারা প্রশ্ন করেন সেটা বুদ্ধিবৃত্তিক কিংবা শৈল্পিক দৃষ্টিকোণ থেকেই হোক না কেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। এমনকি খাদ্যাভাস কিংবা জীবন যাপনের কারণেও কেউ কেউ খুন হচ্ছেন। কান্নাডার বিশিষ্ট লেখক সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী এম এম কালবুরগি থেকে মহারাষ্ট্রের লেখক নরেন্দ্র ধাবোলকার এবং গোবিন্দ পানসারে এরা সবাই কুসংস্কারবিরোধী লেখক ছিলেন। অথচ এদের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ দিল্লির বাইরে বিশারা গ্রামে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন মোহাম্মেদ আখতাক। একের পর এক মুক্তমনা লেখকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া বাড়িতে গরুর মাংস রান্না করা হয়েছে সন্দেহে এক জনকে পিটিয়ে মারার ঘটনারও নিন্দা জানান নয়নতারা।
তিনি বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিরব রয়েছেন। শিল্প-সাহিত্য, সাহিত্য, থিয়েটারের মতো সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের উন্মেষ ঘটানোর জন্যই অভিভাবক হিসাবে সাহিত্য একাডেমির জন্ম হয়েছিলো। অথচ এটা খুবই দু:খের বিষয় যে এমন পরিস্থিতিতে সাহিত্য একাডেমিও নিরব।
