মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় মন্দিরের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ইছাপুরা সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সহ-সভাপতি ও সিরাজদিখান পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ভবন দাস (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ঢাকা মিডফোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ইছাপুরা বাজারের চৌরাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইছাপুরা মন্দির কমিটি ওই মন্দিরের পূজা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।
ভবন দাসের ভাই তপন দাস বলেন, ‘বাড়ির ও মন্দিরের সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ইছাপুরা মন্দির কমিটি ও তাদের জমিদাতা মৃত বিনোদ দত্তের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী একই গ্রামের আ. হাকিম হাওলাদার ওরফে নান্নু হাওলাদারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি হলেও আ. হকিম হাওলাদার তা মেনে নিতে পারেন নি। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে গেট নির্মাণ করতে গেলে হাকিম বৃহস্পতিবার নিরঞ্জনের মিষ্টির দোকানের সামনে একা পেয়ে ভবন দাসকে লোহার রড, লাঠি ও লোহার মগ দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা ভবন দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মিডফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।’
ইছাপুরা সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল কৃষ্ণ পাল বলেন, ‘আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজাকে বন্ধ করার জন্য পরিকরিল্পতভাবে ভবন দাসকে মারধর করা হয়েছে। মামলায় হেরে গিয়েও সাম্প্রদায়িক শক্তির ব্যবহার করেছে। হাকিম মন্দিরের জায়গার মূল মালিক মৃত বিনোদ দত্ত ১৩২৪ দাগের এক একর ১৪ শতাংশ জায়গার মধ্যে সাড়ে ৮৪ শতাংশ ও ১৩২৪ দাগের ৩৬০ খতিয়ানের ৪৮ শতাংশ মোট ১৩২ শতাংশ জায়গা ২০ বছর ধরে জোর করে জবর দখল করে রেখেছে। এ পর্যন্ত হাকিম কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। তাই আদালতে তিনি মামলায় হেরে গেছে। এখন গেট নির্মাণ করলে তিনি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। ভবন দাসকে মারপিটের সঠিক বিচার না হলে এবার দুর্গাপূজা বন্ধ থাকবে।’
ইছাপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন হাওলাদার জানান, আদালতের রায়ে জায়গাটি মন্দিরের সীমানায় পড়েছে। তিনি এ হামলার নিন্দা জানান।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়ারদৌস হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
