ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের এবং বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যিকরা তাদের পাওয়া পুরস্কারগুলো সরকারের কাছে ফেরত দিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ বর্তমান সরকারের সময়ে সমাজে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। অতীতে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের এই পুরস্কার দেয়া হয়।
মালায়াম ভাষার লেখিকা সারা জোসেফ এবং উর্দু ভাষার ঔপন্যাসিক রহমান আব্বাস শনিবার ঘোষণা দেন, তারা তাদের মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ফেরত দেবেন। উত্তরপ্রদেশের দাদরি গ্রামে গরুর মাংস ফ্রিজে রাখার গুজবে একজন মুসলমানকে পিটিয়ে মারা এবং গত আগস্টে কর্ণাটকে কেরালার যুক্তিবাদী এম এম কালবুর্গির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এই পুরস্কার ত্যাগ করেন তারা। একই কারণে এবং একই দিনে হিন্দি লেখক কৃষ্ণ শবতিও তার সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ফেরত দেয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া পুরস্কার ফেরত দেয়ার ঘোষণা দেন ঔপন্যাসিক শশী দেশান্দে। ৭ অক্টোবর একই কারণে ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যিক অশোক বাজপেয়ি দেশটির মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দেন। একই ইস্যুতে দেশটির ইংরেজি লেখক নয়নতারা সেহগাল, হিন্দি লেখক উদয় প্রকাশ তাদের অর্জিত সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পরিত্যাগ করেন।
এর আগে মালায়াম ভাষার বিখ্যাত লেখক কুলবার্গি হত্যার প্রতিবাদে কেরালার প্রখ্যাত লেখক কে সতচিদানন্দন এবং পি কে পারাক্কাদাভু সরকার পরিচালিত সাহিত্য একাডেমির নির্বাহী বোর্ড ও জেনারেল কাউন্সিল থেকে এবং কেএস রাভিকুমার একাডেমির উপদেষ্টা বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন। ইংরেজি ভাষার লেখক কেকি এন দারুভালা কালবুর্গি হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে একাডেমির চেয়ারপার্সন বিশ্বনাথ প্রসাদ তিওয়ারির কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
সারা জোসেফ বলেন, ‘বিনা কারণে মানুষ হত্যা হচ্ছে এবং গজলের অনুষ্ঠান করতে দেয়া হচ্ছে না। এসব বিষয়ে যখন সাহিত্য একাডেমির প্রতিবাদ করা উচিত, তখন তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাই এরই প্রতিবাদে আমি আমার পুরস্কার ফিরিয়ে দিলাম।’
