আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ গাড়ি ভাংচুর, আগুন

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৫, ০১:২৪

আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় বাস চাপায় এক নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আর এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার সকালে ফুঁসে ওঠে আশুলিয়া শিল্প এলাকা। প্রতিবাদে শ্রমিকরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে নেমে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে, দু’টি মিনিবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মহাসড়কে প্রায় দু’ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। নিহত শ্রমিকের নাম ফুলবানু (২০), গ্রামের বাড়ি টাংগাইল জেলায়। সে  পলমল গ্রুপের আয়েশা ক্লদিং-এর সুইং সেকশনে অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলো। গতকাল সকাল ৮টার দিকে ফুলবানু তার কর্মস্থলে যেতে জামগড়ার তার বাসা থেকে পায়ে হেঁটে রওয়ানা দেন। কর্মস্থলের প্রধান ফটকের সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়ক পার হওয়ার সময় গ্রামীণ পরিবহনের মিনিবাস সিগন্যাল অমান্য করে কয়েকজন শ্রমিককে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই ফুলবানুর মৃত্যু হয়, আহত হয় পাঁচ শ্রমিক। আহতদের স্থানীয়রা বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ খবর পলমলসহ আশেপাশের কারখানাগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে ও দুই মিনিবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট যানবাহনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শিল্প ও থানা পুলিশের বহুসংখ্যক সদস্য একত্রে ধাওয়া দিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় পলমলসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

 

প্রায় দু’ঘন্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে পরিবহনের যাত্রীরা। সড়কের দু’পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অনেকে বিকল্প সড়ক অবলম্বন করে। শিল্প পুলিশ ১-এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও আশুলিয়া থানার ওসি মহসিন কাদির জানান, ঘাতক বাসটি আটক করতে পারলেও চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। শিল্পাঞ্চলে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।