কর্ণফুলী তীরে উচ্ছেদ অভিযান হঠাত্ বন্ধ

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীরের দুই হাজার ৩৭০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধারে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১৬ মাস আগে চাওয়া এই বরাদ্দের মধ্যে মিলেছে মাত্র ২০ লাখ টাকা। পুরো বরাদ্দ না মেলায় উচ্ছেদ বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও ঢাক-ঢোল পিটিয়ে শুরু হওয়া এই অভিযান আদৌ অর্থাভাবে বন্ধ, নাকি প্রভাবশালীদের চাপের মুখে বন্ধ হয়ে গেছে তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। স্পষ্ট জবাবও মিলছে না কারো কাছ থেকে।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনার দীর্ঘ সময় পর গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, বন্দর, পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা একযোগে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। অভিযান ফলপ্রসূ করতে অবৈধ দখলকৃত স্থানকে তিন ধাপে ভাগ করা হয়। প্রথম ধাপে পাঁচদিনে ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু এরপর ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও দ্বিতীয় ধাপের উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না।

প্রথম দফার উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে যান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। সে সময় তিনি পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন। কিন্তু  সেই নির্দেশনার প্রায় এক মাস পার হলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এ দিকে, দ্বিতীয় ধাপের উচ্ছেদ অভিযান শুরু না হওয়ায় চট্টগ্রামের পরিবেশবাদীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। শুধুমাত্র অর্থাভাবে এই অভিযান বন্ধ রয়েছে নাকি এর পেছনে প্রভাবশালী দখলদারদের হাত রয়েছে- তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। যদিও উচ্ছেদ কার্যক্রমের শুরু থেকে ভূমিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, নদীর দু’পাশে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। কোনো প্রভাবশালী গুরত্ব পাবে না।

গত ২ মার্চ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকৃত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামও বলেছেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো সমঝোতা হবে না। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উচ্ছেদের জন্য অর্থের কোনো সংকট নেই। অর্থ বরাদ্দ চলমান রয়েছে। তবে কবে নাগাদ এই অর্থ মিলতে পারে সে বিষয়ে মন্ত্রী কোনো আভাস দেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে অবৈধ দখলদাররা অনেকেই প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নিজের দখল করা স্থান রক্ষার পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযান যাতে আর চালানো না হয় সে জন্যও নানাভাবে তদবির চালাচ্ছেন। অবৈধ দখলদারদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর স্থাপনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের লিজ দেওয়া কয়েকটি স্থাপনাও রয়েছে উচ্ছেদের তালিকায়। নদী তীরে গড়ে ওঠা বেশকিছু বড় স্থাপনাও রয়েছে, যেগুলোর মালিক প্রভাবশালী।

উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে কথা বলতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর থেকে নানা মহল থেকে প্রেশার আসে। তবে এখন কী কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।’

উচ্ছেদ অভিযানের সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের উচ্ছেদ কার্যক্রমেই প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ২০ লাখ টাকা। বরাদ্দের অর্থছাড়ের বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। উচ্ছেদের বিষয়েও তিনি উপরের মহল থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি। বর্তমানে প্রথম ধাপে উচ্ছেদ করা জায়গায় কাঁটাতারের ঘের ও দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে এবং পরবর্তী দুই ধাপের জরিপ ও সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।