ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ভয়াবহ সহিংসতা আরো বেড়েছে। পশ্চিম তীরে ইহুদিদের একটি পবিত্র স্থানে আগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১০০ মানুষ লোক হয়েছে। বেশ কিছু দিন ধরে ওই অঞ্চলে সংঘর্ষ ঘটলেও শুক্রবার যেন বিক্ষোভের দিন ছিল। এ দিন ফিলিস্তিনিরা ‘বিপ্লবের’ ডাক দেয়। খবর বিবিসি ও এএফপির।
মুসলমানদের জন্য তৃতীয় পবিত্র নিদর্শন আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলি হামলার ফলে এ মাসের শুরু থেকে এখানে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সূত্র ধরে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজা উপত্যকা যেন উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতার কারণে পুরো মাত্রায় অভ্যুত্থানের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ওবামা ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি নেতাদের উস্কানিমূলক বাগাড়ম্বর বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, ‘সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার খবরে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, ‘ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং ক্ষমতাধর পদে থাকা ব্যক্তিদের উস্কানিমূলক বাগাড়ম্বও, যা সহিংসতা, ক্ষোভ ও ভুল বোঝাবুঝি বাড়াতে পারে সেগুলো বাদ দেয়া গুরুত্বপূর্ণ।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইসরাইল ও ফিলিস্তিন যদি শান্তি ও নিরাপদে পাশাপাশি বসবাস করতে চায়, তাহলে ইসরাইলকে সত্যিকারের নিরাপদ করে গড়ে তুলতে হবে এবং ফিলিস্তিনকে তাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে নিরাপরাধ লোক যাতে মারা না পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি সাম্প্র্রতিক সহিংসতা বন্ধের সর্বোত্তম উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তারা জানান— নেতানিয়াহু ও কেরি আগামী সপ্তাহে বার্লিনে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ দিকে, পশ্চিম তীরের নাবলুসে জোসেফের সমাধিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘শুক্রবার বিপ্লবের’ ডাক দেয়। ও দিকে, গাজা উপত্যাকার সীমান্ত বরাবর সংঘর্ষ হয়েছে। ইসরাইলিদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯৮ জন আহত হয়েছে। এখানে বিক্ষোভরত লোকজনের ওপর ইসরাইলি বাহিনী তাদের ওপর কাঁদুনে গ্যাস, গ্রেনেড, রাবার বুলেট এবং গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষের সময় ইরেজ ক্রসিং বরাবর ইয়াহিয়া আব্দুলকাদের ফরহাত (২৪) নামের একজন গুলিতে নিহত হয় বলে প্যালেস্টাইন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এ ছাড়া, সুজাইয়া শহরে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মাহমুদ হামেইদা (২২) নামের একজন গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হন।
অন্য দিকে, নাবলুসের কাছে বেইত ফুরিকে সংঘর্ষে আরো এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, পশ্চিম তীরে এক ইহুদি স্থাপনার বাইরে এক আলোকচিত্রীর ছদ্মবেশে এক ফিলিস্তিনি ইসরাইলি এক সৈন্যকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে। অবশ্য ওই ফিলিস্তিনি পরে গুলিতে নিহত হন। সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৭ ইসরাইলি এবং ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত ছাড়াও বেশ কয়েকজন ইসরাইলি ও কয়েকশ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।
এ দিকে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জোসেফের সমাধিতে অগ্নিসংযোগের নিন্দা জানিয়েছেন। মাহমুদ আব্বাসের সাম্প্র্রতিক কয়েকটি মন্তব্য সহিংসতায় উস্কানি হিসেবে কাজ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
জোসেফের সমাধি ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে ইসরাইলিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে। শুধু সেনাবাহিনীর এস্কর্টে ওই সমাধি পরিদর্শন করতে পারে ইসরাইলিরা।
