পূজায় ঘরের সাজ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৫, ১১:৪৫
উত্সবকে ঘিরে সবারই প্রস্তুতি থাকে নিজের ঘরটিকে আরও নতুন করে সাজিয়ে নিতে। আর শরৎ মানে পূজার ডাক, তো সব মিলিয়ে গৃহিণীদের এই নিয়ে তোড়জোরের অভাব নেই। পূজার মতো উত্সবে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিথি আগমন বেশি হয়। মনে রাখতে হবে, বসার ঘরের অন্দরসাজ আমাদের রুচির প্রথম বহিঃপ্রকাশ। যেহেতু বসার ঘর বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই সফিস্টিকেশনের সঙ্গে সঙ্গে কমফর্টের বিষয়টা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য নিজের সঙ্গে ঘরেরও চাই পরিপাটি সাজ। 
 
ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে রঙের সঠিক ব্যবহার জরুরি। উজ্জ্বল এবং হালকা রং ঘর বড় দেখাতে সাহায্য করে। যদি ঘরে সূর্যের আলো কম ঢোকে তাহলে কোনোভাবেই দেয়ালে গাঢ় রং করাবেন না। ঘর আরও অন্ধকার দেখাবে। যদি গাঢ় রং করাতে চান তাহলে একটি দেয়ালে কমলা, লাল, হালকা নীল রং করে অন্য দেয়ালগুলোয় নিউট্রাল রং করুন। পর্দার ডিজাইন অনেকটাই নির্ভর করে জানালা-দরজার ডিজাইনের ওপর। ছোট ফ্ল্যাটে বেশি ভারী পর্দা ব্যবহার না করাই ভালো। রিচ ফেব্রিকের পর্দা লাগালে ঘরে একটি আলাদা আমেজ আসে। আর মেঝেতে কার্পেট পাতলে ঘর অনেক বেশি এলিগেন্ট লাগে। বাজেট কম থাকলে শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের কর্নারগুলোতে রাখতে পারেন ইনডোর প্ল্যান্টস, বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্পশেড ও ফুলদানি। ঘরের ইন্টেরিয়র প্ল্যান করার আগে লাইটিংয়ের ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। আলো-ছায়ার ম্যাজিক তৈরি করতে চাইলে সাদা, লাল, কমলা, গোলাপি বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহার করুন। আর বিশেষ অংশ হাইলাইট করার জন্য স্পট লাইট লাগান। যদি ড্রয়িংরুমের সোফার কভার পাল্টানোর ব্যবস্থা থাকে তাহলে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। আর যদি না করা যায় তাহলে সোফার গদি বা কর্নারগুলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। ঘরে ঢুকেই সারাদিনের বন্ধ দরজা-জানালা খুলে দিন। ঘরে বাইরের আলো বাতাস ঢুকলে গুমোটভাব কেটে যায়।
 
IMG0
 
মেঝের কার্পেট সরিয়ে রুমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার করে নিন। কার্পেটটি যদি সম্ভব হয় রোদে শুকিয়ে আনুন। সোফার সামনের সেন্টার টেবিলে যদি চা, কফি, পানি খাওয়ার গ্লাসে দাগ লেগে থাকে তাহলে লিক্যুইড ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলুন। স্টোর রুম কিংবা ছোট বারান্দা যেখানে ড্যাম্পের গন্ধ হয়, সেখানে মেঝেতে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে ১৫ মিনিট পর ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। খাবার টেবিল নোংরা থাকলে টেবিলক্লথে ঝোল কিংবা মসলার দাগ লেগে যেতে পারে। যদি তা-ই হয়, তাহলে এই দাগ তুলতে কুসুম কুসুম গরম পানিতে গুঁড়া সাবান গুলে ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে রাখুন। তারপর দাগের জায়গায় লেবুর টুকরো ঘষে ধুয়ে ফেলুন। রান্নাঘরের খাবারের গন্ধ দূর করতে এক কাপ ভিনেগারের সঙ্গে ৮-১০টি লবঙ্গ দিয়ে চুলায় ফোটাতে থাকলে একসময় পাত্রের পানিতে ভিনেগার কমে আসবে, তখন গন্ধ দূর হবে। গ্যাস বার্নারের আশপাশ পরিষ্কার করার জন্য বেকিং পাউডার, ভিনেগার ও লেবুর রস পানিতে মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে পরিচ্ছন্ন করে নিন। রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে কোনো কিছু ভাজার পর গ্যাসের চুলার একটু দূরে এক কাপ হোয়াইট ভিনেগার রাখুন। গন্ধ ও তেল চিটচিটে ভাব অনেকটাই কমে যাবে রান্নার পর। রান্নাঘরের মেঝে টাইলসের হলে ময়লা পরিচ্ছন্ন করার জন্য লিক্যুইড ক্লিনার ব্যবহার করার মিনিট ১০ পর ভেজা কাপড় দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন, দেখবেন কেমন ঝকঝক করছে। রান্নাঘরের সিঙ্কের পাইপটি জমাট হয়ে গেলে গরম পানি ঢেলে দিন। আর পুরো সিঙ্কটিকে ঝকঝকে তকতকে করতে লিক্যুইড ক্লিনার ও লেবুর টুকরো ব্যবহার করুন। বাথরুমের গুমোটভাব দূর করতে প্রথমে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। দেখুন মোমবাতি নেভানোর পর আর গুমোট ভাবটি নেই। বাথরুমের ভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে ভাব দূর করতে বাথরুমে মানিপ্ল্যান্ট রাখতে পারেন।