সাত খুনের মামলায় ৫ জনকে কারাদণ্ড

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৫, ১৪:৩৭
মেহেরপুরের গাংনীর আড়পাড়া ও জুলশুকা গ্রামের সাত খুনের মামলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থি সংগঠন লাল্টু বাহিনী প্রধান নুরুজ্জামান লাল্টুসহ ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক টি এ মুসা। সোমবার দুপুর ১টার দিকে আদালতে এ দণ্ডাদেশ দেন তিনি। দোষী প্রমাণিত না হওয়ায় একই রায়ে ১৯ জনকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।
 
দণ্ডিতরা হলেন- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাসী লাল্টু বাহিনী প্রধান চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের সিরাজ আলীর ছেলে নুরুজ্জামান লাল্টু, গাংনী উপজেলার জালশুকা গ্রামের মাহাতাব আলীর ছেলে ইউনুছ আলী মাস্টার, তার ছেলে মারফত আলী, ভাই ইকরামুল হক, ইউসুব আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান ও আক্কাছ আলীর ছেলে আবুল কাশেম।
 
জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের ২৯ আগষ্ট দিবাগত রাতে জালশুকা গ্রামে লাল্টু বাহিনী প্রধান নুরুজ্জামান লাল্টুর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীসহ জালশুকা গ্রামে ঢুকে শওকত আলী, তার ছেলে হেলাল উদ্দীন ও পার্শ্ববর্তী তারা চাঁদ আলীর ছেলে নুর ইসলামকে পরিবারের লোকজনের সামনে গলা কেটে হত্যার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে। এরপর এক সন্ত্রাসীরা আড়পাড়া গ্রামে প্রবেশ করে ওই গ্রামের আলতাব আলী মোল্লা, তার ছেলে একরামুল হক ঠান্টু, আমিনুল ইসলাম ও আব্দুল কুদ্দুছকে গলাকেটে হত্যা করে। 
 
এ ঘটনায় পরের দিন ৩০ আক্টোবর জালশুকা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে জালাল উদ্দীন  এবং আড়পাড়া গ্রামের নিহত আলতাব আলী মোল্লার চাচাত ভাই মহির উদ্দীন বাদি হয়ে বাহিনী প্রধান নুরুজ্জামান লাল্টুকে প্রধান আসামি করে ২৪ জনকে গাংনী থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাংনী থানা পুলিশ পরের বছর ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ৩১ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করে।
 
দীর্ঘদিন মামলায় শুনানি শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিজ্ঞ বিচারক। মামলায় সরকারি পক্ষের কৌশুলী ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রশিকিউটর অ্যাডভোকেট কাজী শহিদুল হক ও আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট একেএম শফিকুল আলম।
 
এদিকে মামলার বাদি জালাল উদ্দীন ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রশিকিউটর কাজী শহিদুল হক তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, 'আমরা আদালতের কাছে সুবিচার পাইনি। শিগগিরই মামলা নিয়ে উচ্চ আদালতে যাব।'