এই তো জুলাইয়ের শুরুতে টেস্ট ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছিল বাংলাদেশ। ক্যারিবিয়ান পেসারদের তোপের মুখে খড়-কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। অ্যান্টিগায় প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাদা পোশাকে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জায় ডুবেছিল সাকিব আল হাসানের দল।
অ্যান্টিগায় ইনিংস ও ২১৯ রানের পর কিংস্টনেও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় টেস্টে হেরেছিল ১৬৬ রানে। চার ইনিংসের একটিতেও দুইশ’ পার হতে পারেনি বাংলাদেশ। তারপর পেরিয়ে গেছে তিন মাস। সেই দগদগে ক্ষত নিয়েই আবার টেস্টে উইন্ডিজদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সাকিব বাহিনী।
চট্টগ্রামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে সকাল সাড়ে নয়টায়। হোম সিরিজে এবার ক্যারিবিয়ানদের দুঃসহ অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে দিতে চায় বাংলাদেশ। তবে কন্ডিশন অনুযায়ী উইন্ডিজদের ঘায়েল করতে স্বাগতিকদের মূল অস্ত্র হবে স্পিন। বাংলাদেশের ১৪ সদস্যের দলে বিশেষজ্ঞ স্পিনার আছেন চারজন। তাই টেস্ট সিরিজে সফরকারীদের জন্য স্পিন খেলার পরীক্ষা অপেক্ষা করছে তা সহজেই অনুমেয়।
জুলাইয়ের দুই টেস্টের অভিজ্ঞতা ভুলেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এই সিরিজে সেই অভিজ্ঞতার কিছুটা হলেও ফিরিয়ে দিতে চায় স্বাগতিকরা। সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে এমনটাই আভাস দিয়েছিলেন দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে এই সিরিজটাতে আমাদের ওদের কিছু ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। ওখানে গিয়ে আমরা যে রকম বাজেভাবে দুটি টেস্ট হেরেছি, সেটা কাম্য ছিল না। আমার বিশ্বাস, এই পুরো সিরিজটাই আমরা জিতব।’ এই সিরিজে গোটা বাংলাদেশের চাওয়া মুশফিকের মতোই থাকবে। সাদা পোশাকে দুদলের লড়াইয়ে ১৪ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় দুটি। সেটিও ক্যারিবিয়ানে, ২০০৯ সালে খর্ব শক্তির উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে। তবে ভারত সফর করে বাংলাদেশে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী। ভারত ও বাংলাদেশের কন্ডিশন প্রায় ‘একইরকম’ বলছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেথওয়েট। বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি তাই ভারতেই সেরে এসেছে ক্যারিবিয়ানরা। এমনটাই বলছেন নিয়মিত অধিনায়ক জ্যাসন হোল্ডারের চোটে নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়া ব্রেথওয়েট।
চট্টগ্রামে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ভারত সফর করে এসেছি। প্রথম টেস্টের আগে ওটা খুব ভালো প্রস্তুতি ছিল বলেই মনে করি। কন্ডিশন প্রায় একই, উইকেটেও তেমন পার্থক্য নেই।’
বাংলাদেশের কাছ থেকেও ভালো চ্যালেঞ্জ আশা করছেন ব্রেথওয়েট। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ থাকাই স্বাভাবিক। কাজটা মোটেও সহজ হবে না। ওরা ঘরের মাঠে খুব ভালো। কিন্তু আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
শুধু অধিনায়ক নয় দেড় মাসের বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কোচও ভারপ্রাপ্ত। ভারত-বাংলাদেশ সফরের পর দায়িত্ব ছাড়ার কথা ছিল কোচ স্টুয়ার্ট ল’র। কিন্তু ভারত সফরের পরই ফিরে গেছেন তিনি। হেড কোচ ছাড়াই বাংলাদেশে এসেছিল উইন্ডিজরা। শেষ পর্যন্ত ফিল্ডিং কোচ নিক পোথাসকে হেড কোচের দায়িত্ব দিয়েছে সফরকারীরা।
