নাটুকে ড্রয়ে গ্রুপ-সেরা ডাচরা

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩২

জার্মানির বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও উয়েফা নেশন্স লিগে ড্রয়ের সুবাদে শেষ চার নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস।

কোচ রোনাল্ড কোম্যানের দল এর ফলে ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের সেরা দল হিসেবে প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে উঠলো। পিছিয়ে পড়েও এমন ড্র দলের মানসিক দৃঢ়তার কারণেই সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন কোম্যান।

নেদারল্যান্ডস মাঠে নামার আগে গ্রুপের অন্য দল ফ্রান্স থেকে এক পয়েন্টে পিছিয়ে ছিল । তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় জার্মানির বিপক্ষে শুধু হার এড়ালেই গ্রুপের শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত হয়ে যেত ডাচদের। অন্য দিকে, জার্মানির অবনমন আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এই ম্যাচ থেকে একটি সান্ত্বনার জয় পেতে মরিয়া ছিল কোচ জোয়াকিম লোর শিষ্যরা।

এমনকি নবম মিনিটে টিমো ভের্নারের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। ১৯ মিনিটে ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড লেরয় সানে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে জার্মানির ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বছরের সুন্দর সমাপ্তির স্বপ্নে জোর হাওয়া লাগে। অন্য দিকে, জার্মান রক্ষণ ভেদ করতেই হিমশিম খাচ্ছিল ডাচরা। ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি তৈরি করে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। নয়্যারের দৃঢ়তায় সে যাত্রায় দুই গোলের অগ্রগামিতা ধরে রাখে।

তবে ম্যাচের সব রোমাঞ্চ যেন শেষ পাঁচ মিনিটের জন্য জমিয়ে রেখেছিল নেদারল্যান্ডস। যার শুরুটা করেন কুইন্সি প্রমেস। ৮৫ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে এক শটে ব্যবধান কমান সেভিয়া ফরোয়ার্ড। ফরোয়ার্ডদের ধারহীনতার কারণে ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইককে ফরোয়ার্ডের জায়গায় নিয়ে আসেন ডাচ কোচ। যার ফলটা মেলে হাতেনাতেই। ৯০ মিনিটে ভ্যান ডাইকের গোলেই সমতায় ফেরে নেদারল্যান্ডস। নিশ্চিত করে নেশন্স লিগের শেষ চারও।

দলের কোচ কোম্যান ম্যাচশেষে উয়েফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে বলেন, ‘দলটা মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। আমরা এগিয়ে যাওয়া অব্যহত রেখেছি। তবে আমি মনে করি না আমরা তেমন ভালো খেলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পর্যায়ে কম সময়ের ব্যবধানে দুটো উঁচু মানসম্পন্ন দলের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে আমাদের। যা সম্ভবত একটু বেশিই কঠিন হয়ে পড়ে আমাদের জন্য। ভুলে যাবেন না, জার্মানিও অসাধারণ একটি দল, সম্ভবত ফ্রান্স থেকেও ভালো দল তারা। তবে আমরাও দেখিয়েছি যে, এই মানের একটি দলের বিপক্ষে খেলার সময়ে আমরা পিছিয়ে পড়েও ফিরে আসতে পারি।’

তবে ভ্যান ডাইককে ম্যাচের শেষদিকে উপরে তৃলে আনার কৃতিত্ব পুরোপুরি সহকারীদেরই দিলেন কোম্যান। সাবেক বার্সেলোনা ডিফেন্ডার বলেন, “আমি ডুইট লোডওয়েজেস আর কিস ভ্যান ওন্ডেরেনের কাছ থেকে একটি নোট পেয়েছিলাম। আমরা যখন দুই গোলে পিছিয়ে ছিলাম তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমরা কিছু পরিবর্তন করতে পারি কি না! আমি বলেছিলাম ‘হ্যাঁ’। তারপর আমি নোটের কথাই ভাবছিলাম। আমি তা কেনিকে দিয়েছিলাম এবং শেষে সমতাসূচক দারুণ গোলটি এলো সেই খেলোয়াড়ের পা থেকে যাকে উপরে উঠে যেতে বলা হয়েছিল।”