মিয়ানমারে অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন এনএলডির একটি নির্বাচনী মিছিলে ছুরি ও তলোয়ার নিয়ে এক ব্যক্তি হামলা চালিয়েছেন। দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাত্র একসপ্তাহ আগে এই ঘটনা ঘটল।
বিবিসি বলছে, ইয়াঙ্গুনে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমক্রেসির (এনএলডি) মিছিলে এই হামলাটি চালানো হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলেও ওই অঞ্চলে এনএলডির প্রার্থী, বর্তমান আইনপ্রণেতাকে (এমপি) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থাকেতা পৌর এলাকায় এনএলডির ওই মিছিলে বেশ কয়েকজন মানুষ হামলা চালায়। তাদের কারো কারো হাতে তলোয়ার ছিল। ২৫ বছরের মধ্যে দেশটিতে প্রথমবারের মতো অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৮ নভেম্বর। এনএলডি অধিকাংশ আসনে জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
IMG0
এনএলডির প্রার্থী নাইঙ নাগান লিনকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার মাথায় ও হাতে আঘাত লেগেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নির্বাচনী মিছিল বন্ধ করার জন্য আগে থেকেই হুমকি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই মিছিলটি বের করা হয়। দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের সপ্তাখানেক আগে এই হামলাটি চালানো হলো। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই ইয়াঙ্গুনে বিরোধীদলীয় নেতা অং সান সু চির নেতৃত্বে বড় ধরনের মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। এনএলডি নির্বাচনে বিজয়ী হলে সু চি সরকারে নেতৃত্ব দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অবশ্য দেশটির পরিবর্তিত সংবিধান অনুযায়ী সু চির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথটি ঠিক পরিষ্কার নয়। কারণ তার দুই ছেলেই বিদেশি নাগরিক। আর সংবিধান অনুযায়ী কারো পরিবারের কেউ বিদেশি নাগরিক হলে বা থাকলে তিনি রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান হতে পারবেন না।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জনগণের সরাসরি ভোটে হয়না। এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ভোটেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রের ও সরকারের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে সু চির নেতৃত্বাধীন দল দেশটির জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয় অর্জন করেছিল। কিন্তু সেনা বাহিনী সেই ফলাফল উপেক্ষা করে সু চিকে ১৫ বছর গৃহবন্দি করে রাখে। ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভলাপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিটি) ২০১০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। কারচুপির অভিযোগ এনে ওই নির্বাচন বয়কট করেছিল এনএলডি। বিবিসি।
