ঢাবি-জবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ২২ জন গ্রেফতার

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৫, ২১:২৯
 
ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
 
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ফার্মগেট, তেজকুনিপাড়া ও নাখালপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করা হয়। শুক্রবার পুরান ঢাকা থেকে আরো ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি, মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম।
 
এ ছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে জালিয়াতির দায়ে হাসিবুল হাসান নামের এক ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম আরো জানান, আটককৃতরা ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। তারা কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে ভর্তিচ্ছুদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দেয়ার চুক্তি করে। এরপর ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে প্রশ্নের উত্তর পাঠিয়ে দেবে বলে ভর্তিচ্ছুদের জানায়। পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র ও উত্তর দেয়ার কথাও বলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের। প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে ১২ জনকে এবং শুক্রবার আরো ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে শনিবার বিস্তারিত জানানো হবে।’
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী বলেন, ‘শুক্রবার সকালে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের একটি কক্ষ থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ হাসিবুলকে আটক করা হয়। পরে দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমী মাহবুব পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইনের ১৯৮০-এর ৯ (খ) ধারা অনুযায়ী তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। পরে হাসিবুলকে শাহবাগ থানার পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।’
 
তিনি আরো বলেন, ‘ডিভাইসটি দেখতে মাস্টার কার্ডের মতো। এর ভেতরে একটি সিম আছে। এ ডিভাইসটি মুঠোফোনের মতো কাজ করে। হাসিবুলের কানে খুবই ছোট একটি হেডফোন ছিল। বাইরে থেকে কেউ উত্তর সরবরাহ করছিলেন, আর হাসিবুল ওই ডিভাইসের মাধ্যমে শুনে তা লিখছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুল পরীক্ষায় জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন। ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটি বিভাগের ফরহাদ মাহমুদ নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার পরীক্ষার হলে উত্তর সরবরাহের চুক্তি হয়েছিল। ফরহাদকে আটকের চেষ্টা চলছে।’