অস্ট্রিয়া হয়ে শরণার্থী আগমনে কঠোর হচ্ছে জার্মানি

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৫, ১৮:২১
 
অস্ট্রিয়া হয়ে শরণার্থীদের আগমন ঠেকাতে সীমান্তের বিভিন্ন প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে জার্মানি। বেভারিয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার শরণার্থী প্রবেশের স্রোতধারা নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। খবর বিবিসির।
 
দেশটি জানিয়েছে, সীমান্তের পাঁচটি প্রবেশ পয়েন্টে অস্ট্রিয়ার সাথে তাদের চুক্তি হয়েছে। বেভারিয়া কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, অস্ট্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে নতুন করে আসা শরণার্থীদের ঠিকভাবে সহায়তা দেওয়া যাচ্ছে না। গত বুধবার ৮ হাজারের বেশি শরণার্থী বেভারিয়ায় আসে বলে জার্মান পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এদিকে গ্রিস হয়ে জার্মানিতে প্রবেশের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তা ছাড়া তুর্কি হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেকোনো দেশে প্রবেশের চেষ্টায় গ্রিসে এসে নৌকাডুবিতে এরই মধ্যে ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এদের বেশির ভাগ শিশু।
 
গ্রিসের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—কালিমনস দ্বীপের কাছে ১৯ জনের মরদেহ এবং ১৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মরক্কো থেকে স্পেনের দিকে আসার পথে একটি নৌযান ডুবে গেলে ৩৫ জন নিখোঁজ হয়। এদের মধ্যে ৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে এবং ১৫ জন শরণার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর স্পেনের উপকূলরক্ষী বাহিনী এ শরণার্থী উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষণা করেছে।
 
এ দিকে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, প্রবেশপথে নতুন আইন শীঘ্রই কার্যকর করা হবে। আমাদের আরো কার্যক্রম রয়েছে- বলেন তিনি। বেভারিয়া পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, চুক্তির অধীনে ঐ পাঁচটি স্থান দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ জন শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারবে। অন্য দিকে, এ সপ্তাহের শুরুর দিকে জার্মান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থমাস ডি মাজিরি অভিযোগ করেন, অস্ট্রিয়া কোন ঘোষণা না দিয়েই রাতের বেলা তাদের সীমান্তের দিকে শরণার্থী প্রেরণ করে।
 
ফেডারেল পুলিশের মুখপাত্র হেনরিচ অনস্টেইন বলেন, মূল সমস্যা হচ্ছে কত মানুষ, কোন সীমান্ত দিয়ে আসছে তা আমরা জানতে পারছি না। তবে অস্ট্রিয়া পুলিশের এক মুখপাত্র ঐ অভিযোগকে ‘তামাশা’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, অস্ট্রিয়া এক দিনে ১১ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। স্লোভেনিয়া থেকে এসব শরণার্থী তাদের দেশে আসে।
 
জাতিসংঘের হিসেবে এ বছর ৭ লাখের বেশি শরণার্থী ইউরোপে এসেছে। এরা বেশির ভাগই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে সেখানে পাড়ি জমিয়েছে। তবে শীতে এ জনস্রোত কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।