চিকিত্সাসেবা তৃণমূল স্তরে পৌঁছাইয়া দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার জন্য ক্রয় করা হইয়াছিল শতকোটি টাকার চিকিত্সা সরঞ্জাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হইল, মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি ও সংশ্লিষ্টদের নজরদারির অভাবে অচল হইয়া পড়িয়া রহিয়াছে এইসকল চিকিত্সা সরঞ্জামের বেশিরভাগ অংশ। রোগনির্ণয়ের জন্য প্রাথমিক সরঞ্জাম হিসাবে রহিয়াছে এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, অটো অ্যানালাইজার ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সরঞ্জাম। বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন ধাপে এইসকল চিকিত্সা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাজেট না রাখা, মেশিন দিলেও টেকনিশিয়ান না দেওয়া, অ্যাম্বুলেন্স থাকিলেও চালক না থাকা— প্রভৃতি কারণে শতকোটি টাকার চিকিত্সা সরঞ্জাম কোনো কাজেই লাগিতেছে না। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অব্যবহারজনিত কারণে ও কোনো কোনো সরঞ্জাম সার্ভিসিং না করিবার ফলে অচল হইয়া পড়িয়া আছে।
চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, জেলার ১৪টি উপজেলার জন্য একটি করিয়া মোট ১৪টি এক্স-রে মেশিন কেনা হইলেও এখন ১১টি উপজেলাতেই সচল নাই এই মেশিন। টেকনিশিয়ানের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনও চলে না ১৪ উপজেলার ১৩টিতেই। অন্যদিকে সকল ধরনের অবকাঠামো তৈরির পরও সাধারণ মানুষ সেবা পাইতেছে না ডেন্টাল ইউনিটের। অবকাঠামো থাকিলেও ১৪ উপজেলার মধ্যে ১২টিতেই মিলিতেছে না অটো অ্যানালাইজার মেশিনের সেবা। অ্যাম্বুলেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিত্সা সরঞ্জামও অচল পড়িয়া থাকিবার কারণে জরুরি সেবাও পাইতেছে না এই জেলার কোটি মানুষ। কেবল চট্টগ্রাম নহে, মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি ও সংশ্লিষ্টদের নজরদারির অভাবে দেশের অন্যান্য স্থানের অনেক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সা সরঞ্জাম কোনো কাজে লাগিতেছে না। বিগত কয়েক মাসে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হইয়াছে এই সংক্রান্ত অনেক সংবাদ। যেমন—সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ বত্সর আগে আনা এক্স-রে মেশিনটি এখন পর্যন্ত চালু করা হয় নাই। পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক আছেন মাত্র দুইজন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নূতন ভবনে অপারেশন থিয়েটার থাকিলেও সেইখানে কোনো কাজ হয় না। সার্জারি মেশিনগুলি নষ্ট হইয়া গিয়াছে। একই অবস্থা ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। সেইখানেও নষ্ট হইতেছে কোটি টাকার সরঞ্জাম। এইভাবে আমরা আরো অসংখ্য দৃষ্টান্ত তুলিয়া ধরিতে পারি। দেখা যাইতেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হইলেও কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের শুধু অবহেলার কারণে অনেক স্থানে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাইতেছে না সাধারণ মানুষ। অথচ সরকারের তরফ হইতে তৃণমূল স্তরে চিকিত্সাসেবা পৌঁছাইতে দিতে চেষ্টার অন্ত নাই। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়িয়া তোলা হইয়াছে। নিয়োগ দেওয়া হইতেছে নূতন নূতন চিকিত্সক। চিকিত্সকরা তৃণমূল স্তরে না থাকিলে তাহাদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারিও একাধিকবার উচ্চারণ করিয়াছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।
প্রশ্ন হইল, প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার ছাপ কেন থাকিবে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে? নীতিনির্ধারক মহলের সর্বোচ্চ সদিচ্ছা সত্ত্বেও কেন ভোগান্তির শিকার হইতে হইবে সাধারণ মানুষকে?
