কোচিংয়ের পরিবর্তে বাধ্যতামূলক প্রাইভেট!

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ২২:০৩

সম্প্রতি হাইকোর্ট ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ বৈধ বলে রায় দিয়েছেন। এই নীতিমালার অধীনে কোনো সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ কোচিং সেন্টারে পড়াতে পারবেন না। তবে ঐ নীতিমালার ২ নম্বর ধারা অনুযায়ী শিক্ষকগণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে শ্রেণিকক্ষেই সহায়ক ক্লাসের নামে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। এই নীতিমালার কারণে শিক্ষার্থীদের পছন্দমতো কোনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার স্বাধীনতাও থাকছে না। কারণ সহায়ক ক্লাসের বেতন হিসেবে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পরিশোধ করে বাড়তি প্রাইভেট শিক্ষক রাখার মতো আর্থিক সক্ষমতা আমাদের দেশের বেশিরভাগ অভিভাবকেরই নেই। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন না হলে অর্থাত্ মা, বাবা বা বড় ভাইবোনের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তাকে শিক্ষকদের সহায়ক ক্লাসে যেতে হবে। এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির পথে বড় অন্তরায়। বাড়তি আয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ক্লাসের আগে বা পরে শিক্ষকদেরও প্রাইভেট পড়ানোর অধিকার থাকা উচিত। একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়লে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই উপকৃত হবে। তবে প্রাইভেট পড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই স্বাধীনতা থাকতে হবে। কাজেই এই নীতিমালা সংশোধন করতে হবে—যাতে কোনো শিক্ষক কোনো অবস্থাতেই নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে সহায়ক ক্লাসের নামে প্রাইভেট পড়াতে না পারেন। তাহলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। আর পাবলিক পরীক্ষার খাতা অতি উদার বা কঠোর ভাবে নয়, স্বাভাবিকভাবেই মূল্যায়ন করতে হবে। অতি মাত্রায় উদারতা দেখিয়ে জিপিএ ৫-এর সংখ্যা  বা পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষার মান বাড়ানো যায় না বরং পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকেই ধ্বংস করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।      

বিপ্লব বিশ্বাস, ফরিদপুর