‘বড় ভাই’ কাইয়ুমের নির্দেশে তাভেল্লা খুন

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৫, ০০:৪৩

রাজধানীর গুলশানে ইতালির নাগরিক চেজার তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। খুনের নির্দেশদাতা সেই ‘বড় ভাই’ হলেন বিএনপি নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুল কাইয়ুম। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে থাকা কাইয়ুমের ছোট ভাই আব্দুল মতিন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন হত্যাকাণ্ডের জন্য তার বড় ভাই আব্দুল কাইয়ুম মালয়েশিয়া থেকে টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিলারদের ৫ লাখ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও অর্ধেক দেয়া হয়েছে।

 
এদিকে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতার খুনিরা ‘বড় ভাই’ হিসেবে বলেছে মতিনের নাম। আর মতিনের বড় ভাই কাইয়ুম। তবে কাইয়ুমের কোন বড় ভাই আছে কি-না সেটা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই জানা যাবে। চেজার তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত অস্ত্রটি উদ্ধার ছাড়া সবকিছুই উদ্ঘাটিত হয়েছে।
 
পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ইত্তেফাককে বলেন, সবগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে। শুধু চেজার তাভেল্লা নয়, অন্য হত্যাকাণ্ডের খুনিরাও গ্রেফতার হবে। পুরো বিষয়টি দেশবাসীকে জানানো হবে। অন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
 
এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের সঙ্গে এদেশীয় জঙ্গিদের কোন সম্পর্ক নেই। তবে স্থানীয় জঙ্গিদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির মিলেমিশেই নানা ধরনের নাশকতার ছক এঁটেছে। একের পর এক হামলা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করে তারা।
 
সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর ফকিরাপুলে মহানগর ছাত্র শিবিরের (পূর্ব) একটি অফিসে অভিযান চালিয়ে ৬ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং জিহাদি বই পাওয়া যায়। এসব বিস্ফোরক নাশকতার জন্য আনা হয়েছিল বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন মতিঝিল বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলে উত্খাতের যে ষড়যন্ত্র হয়েছে তার কাজ জামায়াত-শিবির, বিএনপি ও জঙ্গিদের ভাগ করে দেয়া হয়েছে। মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, কিছু কিলিংয়ের দায়িত্ব বিএনপি নেতারা নিয়েছিলেন। জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়ে কিছু নাশকতার দায়িত্ব নিয়েছিল শিবির। আগাম তথ্য পাওয়ায় তাদের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
 
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ‘ভাগ্নে রাসেল’, রাসেল চৌধুরী ওরফে ‘চাকতি রাসেল’, ‘শুটার রুবেল’ এবং শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরীফ নামে চারজনকে গ্রেফতার করে ডিবি। এরা সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়ে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে।
 
এদের মধ্যে ভাগ্নে রাসেল ও চাকতি রাসেল স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, মতিন তাদের খুনের জন্য ভাড়া করে। সাদা চামড়ার একজন বিদেশি হত্যার জন্য ৫ লাখ টাকায় ভাড়া করলেও কাজ শেষ হওয়ার পর অর্ধেক টাকা দেয়। বাকি অর্ধেক টাকা না দিয়ে টালবাহানা করেছেন। এদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মতিনকে গ্রেফতার করে ডিবি।
 
আলোচিত এই হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জিহাদ হোসেন বলেন, চেজার তাভেল্লা হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। মতিন ছাড়া সবাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। মতিনও জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য দিয়েছেন। যা যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
 

প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ইতালির ত্রাণকর্মী চেজার তাভেল্লা।