মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেরিয়ে এলো প্রাচীন নিদর্শন

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ২২:১৪

 

 

 স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেরিয়ে এলো আরো কিছু প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন। ইতোপূর্বে পাশাপাশি তিনটি বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান পাওয়ার পর গড়ের বৈরাগীর ভিটায় খনন করে ওইসব মন্দিরের সম্প্রসারিত স্থাপত্য নিদর্শন উন্মোচিত হলো এবার। সেইসঙ্গে সন্ধান মিলেছে বেশকিছু প্রত্নবস্তুরও। সেখান থেকে প্রাপ্ত প্রত্নসামগ্রী নিশ্চিত করেছে মহাস্থানগড় প্রাচীন যুগেও ঐতিহ্য,সংস্কৃতিতে ছিলো সমৃদ্ধ। প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন নগরী ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান মহাস্থান গড়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খননকালে এসব নিদর্শনের সন্ধান মেলে। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে খনন ও সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে মহাস্থানগড়ে।

মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনন করা হয়েছে। খননের বিভিন্ন পর্যায়ে এখানে বেরিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রত্ন নিদর্শন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকার যৌথভাবে খনন কাজ পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খনন পরিচালনা করছে। ভিটায় নিজস্ব অর্থায়নে তৃতীয় দফায় শুরু হয়েছে খনন ও সংস্কার কাজ।

মহাস্থান জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান এসএম হাসানাত বিন ইসলাম জানান, এবার খননকালে সেখানে স্থাপত্য শৈলীর পাশাপাশি বেশকিছু প্রত্নবস্তুর সন্ধান মিলেছে। তার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় উজ্জ্বল চকচকে কালো মৃত্পাত্র (এনবিপিডাব্লিউ), বিভিন্ন যুগের মৃত্পাত্রের ভগ্নাংশ, তৈলপাত্র, পোড়ামাটির বাটি ও পোড়ামাটির গুটিকা। খনন দলের সদস্য ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের শাহজাদপুর রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ জানান, যেসব প্রত্নবস্তুর নমুনা মিলেছে তা প্রমাণ করে খ্রিস্টের জন্মের পূর্বেও এই জনপদ ছিলো সমৃদ্ধ। বৈরাগীর ভিটায় ইতোপূর্বে খননে যে তিনটি বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান মেলে সেসব সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেই হিসাবে এই স্থাপত্য নিদর্শনগুলো প্রায় এক হাজার ৪০০ বছরের প্রাচীন। এই প্রাচীন নিদর্শনগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে হলে তার সম্প্রসারিত অংশও বের করা প্রয়োজন। সে কারণেই এবার বৈরাগীর ভিটায় খনন ও সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। সংস্কার কাজ শেষ হলেই বৈরাগীর ভিটা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।