'১০ বছরে তৃতীয় শীর্ষ পারমাণবিক দেশ হতে পারে পাকিস্তান'

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৫, ২২:০১
 
পাকিস্তানের পারমাণবিক ক্ষেত্রে ক্রমাগত এগিয়ে যাওয়া দেশটিকে বিশ্বের কাছে তৃতীয় পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তাই এই মুহূর্তে যদি এর লাগাম টেনে না ধরা যায়, তাহলে এর ভয়বহ ফল বিশ্ববাসীকে বহন করতে হবে। সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়েছে।
 
পত্রিকাটিতে বলা হয়েছে, যদিও পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একমত। তার পরও দেশটির একের পর এক এ বিষযে সমৃদ্ধি অর্জন বিশ্ব নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। পাকিস্তানের ১২০টিরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যা দেশটিকে আগামী এক দশকের মধ্যে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে বিশ্বে তৃতীয় স্থান অধিকার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে অতিক্রম করতে না পারলেও চীন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনকে ছাড়িয়ে যাবে।
 
সংবাদপত্রটিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অস্ত্রাগারগুলোতে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ভাণ্ডার দ্রুত বাড়ছে, যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এর মধ্যে ছোট কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রও রয়েছে। এগুলো ভারতকে যেকোনো সময়ে আক্রমণ করার সক্ষমতা রাখে। আর দূরপাল্লার যে পারাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তার কথা  তো বলাই বাহুল্য। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে যে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, তা ভারতের চেয়েও বেশি। তবে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ আছে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। আর অল্প ব্যবধানে রাশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়।
 
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক একটি সাময়িকীতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পত্রিকাটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্ শক্তিগুলো এরই মধ্যে দুই বছর পার করে দিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করতে। অথচ তাদের হাতে আদৌ এ ধরনের অস্ত্র আছে কি না, তা নিয়ে যথার্থ কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। অথচ জাতিসংঘের চার সদস্য দেশ—ভারত, পাকিস্তান, ইসরাইল এবং দক্ষিণ সুদান পারমাণবিক অস্ত্র বিরতিকরণ চুক্তিতে (এনপিটি) সই করেনি। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন এতে স্বাক্ষর করলেও ভারত-পাকিস্তান এ থেকে দূরেই রয়ে গেছে।
 
মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়গুলো বর্তমানে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। তার পরও ভবিষ্যত্ কতখানি তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। গত মাসের ২২ তারিখে হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বৈঠক হয়। কিন্তু সে সময় এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। আবার ভারত ও পাকিস্তানে দীর্ঘদিন জিইয়ে থাকা কাশ্মীর সমস্যা সমধানেও যুক্তরাষ্ট্র চোখে পড়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এ ব্যাপারে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করছেন না। কয়েক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে বিরাগভাজন হলেও  ২০০৮ সালে তার সুর পাল্টে যায়। চীনকে দমাতে তখন তারা ভারতকে পাশে রাখতে চায়। এ কারণে তারা ভারতের সঙ্গে একটা ‘উদার পারমাণবিক সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। যাতে করে ভারত তাদের কাছ থেকে পারমাণবিক শক্তির প্রযুক্তি ক্রয় করে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান—তারা পাকিস্তানকে ভারতের মতো সে ধরনের কোনো চুক্তিতে আসতে দিতে চায় না।