দুই মাসের জন্য উপকূলে মত্স্য শিকার বন্ধ

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ২২:২৩

বরিশাল অফিস

বরিশাল সহ উপকূলের মত্স্য অভয়ারণ্যে সকল প্রকার মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে ১ মার্চ থেকে। উপকূলীয় নদীতে পূর্ব থেকে থাকা ৩৫০ কিলোমিটারের সাথে ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে বরিশালের বিভিন্ন নদীর ৮২ কিলোমিটার যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে মোট ৪৩২ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে মত্স্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ কড়া নজরদারীতে রয়েছে। গত ৮ দিনে মত্স্য অভায়রন্যে কেউ মাছ শিকার করতে ঢুকলেও অধিকাংশ আটক হচ্ছে। উপকূলের লাখ লাখ জেলে অভায়রন্যের বাইরে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত ভাবে মাছ শিকার করছে। তবে জাটকা নিধন বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না কেউ। প্রতিনিয়ত মেঘনা-তেতুলিয়াসহ বিভিন্ন নদী থেকে জাটকা তুলে এনে মহাজনের কাছে জমা দেয়া হচ্ছে। মহাজনী ঘাট ও আড়ত হয়ে এসব মাছ চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন মোকাম ও জেলায়। মাঝেমধ্যে কোস্টগার্ড ও পুলিশের হাতে ২/১টি চালান ধরা পড়ে মাত্র। কিন্তু সে লোকসান পুষিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মাছ ঘাটের মালিকখ্যাত জলদস্যুরা জাটকার ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। অভিযানের মুখে নিজেরা আত্মগোপনে থেকে কিংবা সতর্ক অবস্থান নিয়ে পরিচালনা করছে লাখ লাখ টাকার মহাজনী ব্যবসা।

মত্স্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আগামী মে মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে মাছ শিকার বন্ধ থাকবে। দু’ মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে ১ মার্চ থেকে। আগামী ১ জুন শুরু হবে ইলিশের ভরা মৌসুম। ২০০৬ সাল থেকে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উত্পাদন বৃদ্ধিতে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস মেঘনার চাঁদপুরের ষাটনল থেকে আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিঃমিঃ, মেঘনার চর-ইলিশা থেকে চর-পিয়াল ৯০ কিঃমিঃ, ভেদুরিয়া ভোলা থেকে পটুয়াখালীর চররুস্তুম ১০০ কিঃমিঃ, পদ্মার নদীর নারিয়া ভেদরগঞ্জ উপজেলা থেকে মতলব উপজেলার চাঁদপুর পর্যন্ত ২০ কিঃমিঃ অভয়াশ্রমে মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বছর প্রথমবারের মতো যুক্ত হওয়ায় ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর নদীর হবিনগর থেকে মেহেন্দিগঞ্জের বামনীর চর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১৪ কিঃমিঃ, মেহেন্দিগঞ্জের গজারিয়া নদীর হার্ডপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ড ৩০ দশমিক ২৭ কিঃমিঃ, হিজলার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাহাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬৩ কিঃমিঃ এলাকায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ এলাকাগুলো মত্স্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবছর এ মৌসুমে বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ ডিম ফোটানোর জন্য মিঠাপানিতে চলে আসে। সাগরের লবন পানিতে ইলিশের প্রজনন হয় না। যে কারণে তারা প্রজননের জন্য প্রতিবছর এ মৌসুমে মিঠাপানিতে আসতে বাধ্য হয়। ডিম ছাড়ার জন্য তারা গভীর পানির এলাকাগুলো বেছে নেয়। মত্স্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ  দাস জানান, নতুন যুক্ত হওয়া ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের আওতাভূক্ত এলাকার জেলে পল্লীতে সচেতনামূলক সভা ও প্রচার চালানো হয়েছে। লিফলেট বিতরণ সহ মাইকিং করা হয়েছে। তিনি জানান এ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় ১০ জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা ও ১শ’ কেজি জাটকা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন নৌ-বাহিনী যুক্ত হলে অভিযান আরো জোরদার হবে।

উপকূলের জেলে ও মত্স্য আড়তদাররা জানান, মত্স্য কর্মকর্তা, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঐক্যবদ্ধ ভাবে অভয়ারন্য রক্ষায় কাজ না করলে জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষার সুফল মিলবে না। এ দু’মাস যে সব জেলে মাছ শিকার বন্ধ রাখতে তাদেরকে বিশেষ প্রনোদনার চাল কিংবা আর্থিক সাহায্য করতে পারলে জেলেদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।