বিশেষ অভিযানে সারাদেশে ৩৫০ জন গ্রেফতার

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৫, ০২:৩৫

নাশকতা ঠেকাতে দেশের ৩২টি জেলা ও ৫টি মেট্রোপলিটন এলাকায় চলছে পুলিশের বিশেষ অভিযান। বুধবার গভীর রাতের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে ৩৫০ জন। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনের গ্রেফতারের সংখ্যা ২৪শ’।

 
পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের সিংহভাগই বিভিন্ন নাশকতা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। সূত্র জানায়, বুধবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত অভিযান চালানো হয় ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম জেলা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায়। এসময় আটক করা হয় প্রায় ৫’শ জনকে। তবে যাচাই-বাছাই করে ৩৫০ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, অভিযানের শুরুতে গ্রেফতারের সংখ্যা বেশি ছিলো। অভিযান শুরুর পর অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছে ফলে গ্রেফতারের সংখ্যা কমেছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
 
সম্প্রতি দুই বিদেশি হত্যা, গাবতলী ও আশুলিয়ায় পুলিশ হত্যা ও পুরনো ঢাকায় হোসেনী দালানে হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ দেশের ৩২ জেলা (যেসব জেলায় ইতোপূর্বে নাশকতার ঘটনা ঘটেছিল) চট্টগ্রাম রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় এ অভিযান শুরু করেছে। তবে কোন্ জেলায় কোন দিন অভিযান চালানো হবে তা নির্ধারণ করবেন ঐ জেলার পুলিশ সুপার। পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ, র্যাব ও প্রয়োজনে বিজিবি নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
 
সিলেটে আটক ২০, বিস্ফোরক উদ্ধার
 
সিলেট অফিস জানান, সিলেটের তিন উপজেলায় বিশেষ অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ১৮ নেতা-কর্মীসহ ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। অভিযানে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব অংশ নেয়।
 
অভিযানে কানাইঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল করিমকে তার আল নূর প্রোপার্টিজের অফিস থেকে আটক করা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২৫০টি জিহাদি বই এবং ১৫০টি চকলেট বোমা। জৈন্তাপুর থেকে আটক করা হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড শিবিরের সেক্রেটারি তোফায়েল আহমদকে। সেখান থেকেও উদ্ধার করা হয় ইসলামী জিহাদী বইসহ ছাত্র-শিবিরের চাঁদা আদায়ের রশিদ।
 

সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা জানান, আটক জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী, নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সরকার বিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।