উখিয়ায় নির্বিচারে অতিথি পাখি শিকার

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৫, ১৫:১৮
প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের শুরুতে উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে অতিথি পাখির আগমন ঘটতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে পাখি শিকারির তাণ্ডব। এসব শিকারিরা আমন ক্ষেতের মাঝখানে অভিনব কায়দায় বাসা তৈরি করে জাল ফেলে প্রতিদিন শত শত পাখি ধরে প্রকাশ্য হাটবাজারে বিক্রি করছে। 
 
অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হিসাবে খ্যাত মাছকারিয়া, মধুরছড়া, জাম্বুনিয়া শীলের ছড়া ও নলবনিয়া এলাকা ঘিরে এক শ্রেণির অসাধু পাখি শিকারি অবাধে বিচরণ করলেও দেখার কেউ নেই। 
 
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা নুর মোহাম্মদ সিকদার জানান- মাছ, ধান ও প্রাণিকূল সমৃদ্ধ খালবিল জলাশয়গুলোতে যুগ যুগ ধরে অতিথি পাখির আনাগোনা চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ কতিপয় পেশাদার অবৈধ পাখি শিকারি নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত রাখায় অতিথি পাখির অস্তিত্ব চিরতরে হারিয়ে যেতে বসেছে। 
 
গত শীত মৌসুমে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় বনকর্মীরা যৌথ অভিযান চালিয়ে মাছকারিয়া এলাকায় শিকারির কবল থেকে বিপুল পরিমাণ বক পাখি উদ্ধার করে ছেড়ে দিলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা ফের অতিথি পাখি নিধনে মেতে উঠেছেন। 
 
স্থানীয়রা জানান, শীত মৌসুমে অতিথি পাখি ছাড়াও কানা বক, সাদা বক, পানকৌড়ি, বালিহাস, ডাহুক ও ঘুঘুসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ধানক্ষেতে নেমে আসে। এ সুযোগে শিকারিরা একটি পালিত বক ধানক্ষেতে বেঁধে রেখে অভিনব কায়দায় ওঁৎপেতে থাকে। এ সময় নীল আকাশে বিচরণ করা পাখির ঝাঁক পালিত বকটিকে অনুসরণ করে নিচে নামলেই পাখির ঝাঁক আটকা পড়ে যায় শিকারির জালে। এভাবে প্রতিদিন শত শত পাখি নিধন করা হচ্ছে বলে গ্রামবাসী জানান। 
 
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মির আহমদ জানান, বন্য পশু-প্রাণী শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি এসব পাখি শিকারির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।