বুলগেরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে শরণার্থীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক ও নিষ্ঠুর আচরণ করার অভিযোগ এনেছে ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। দেশটি থেকে সার্বিয়া যাওয়ার পথে শরণার্থীদের ওপর চালানো জরিপের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে বলা হয়- এ যাত্রাকালে আশ্রয় প্রার্থীদের পুলিশি প্রহার ও চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়েছে। তবে দেশটির সরকার এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। তুরস্ক হয়ে গ্রিক দ্বীপে যেতে সাগর পাড়ি দিতে হয়, যা খুবই বিপজ্জনক। তাই সম্প্রতি তুরস্ক থেকে বলকান অঞ্চলের মধ্য দিয়ে জার্মানি, সুইডেন এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় অবৈধ এ সব অভিবাসীদের। সিরিয়া, আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের লাখ লাখ শরণার্থীকে এ পথে যেতে অনুমোদন দেয়া হয়। বেলগ্রেড সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালনায় এবং অক্সফামের সহযোগিতায় এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়, শরণার্থীরা তুরস্ক-বুলগেরিয়া সীমান্ত এবং পরে যখন তারা সেখান থেকে সার্বিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল, তখন আরো একবার নির্যাতনের শিকার হয়। এ ছাড়া, বুলগেরিয়ায় পুলিশের চাঁদাবাজি, শরণার্থীদের ওপর শারিরিক নির্যাতন এবং পুলিশের কুকুর দিয়ে হামলা চালানো সব কিছুই বিশদভাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বুলগেরিয়া থেকে সার্বিয়ার সীমান্ত শহর দিমিত্রভগাদে আসা ১০০ শরণার্থীর ওপর জরিপ চালানো হয়। গত মাসে তিন দিন ধরে তাদের সাক্ষাত্কার নেয় সংস্থাটি। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অক্সফামের পরিচালক স্টেফানো বালদিনি বলেন, ‘সীমান্তে মানবাধিকার রক্ষায় এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নকে হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ইউকে প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এ প্রতিবেদন এখন নির্যাতনের প্রমাণস্বরূপ একটি দলিল। গত মাসে বুলগেরিয়ায় প্রবেশ করার পর এক আফগান শরণার্থীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর গভীর দুঃখ প্রকাশ করে এবং এ হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।
