লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাস ১৫ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের নিয়ম থাকলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হলেও সময়মত ফল প্রকাশ করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮-৯ মাস পরও ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালযের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় ৬ মাস আগে, ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় ৫ মাস আগে। নৃবিজ্ঞান বিভাগের চারটি বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় ৯ মাস আগে। ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় ৭ মাস আগে। ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় ৬ মাস আগে। আর বিভাগটির তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় ৭ মাস আগে। এদিকে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় ৯ মাস আগে। অথচ বিভাগগুলো এখন পর্যন্ত ফল প্রকাশ করতে পারেনি।
ফল প্রকাশে এই ধরনের অস্বাভাবিক বিলম্ব হওয়ায় বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যথাসময়ে ফল প্রকাশিত না হওয়ায় এসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিসিএসসহ অন্য কোনো চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছে না। এছাড়া মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন চাকরিতে যোগদান করতে পারছে না।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষকরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা ঠিকমতই নেন। যথাসময়ে রেজাল্টও দিয়ে দেন। এমনকি সান্ধ্যকালীন কোর্সের ক্লাস-পরীক্ষাও ঠিকমত নেন, রেজাল্টও সঠিক সময়ে দেন। আমাদের বেলায় যত সময়ক্ষেপণ।’
এদিকে শিক্ষকদের এসব আচরণকে অনৈতিক বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় আমাদের কোনো দায় নেই। শিক্ষকরা আমাদের কাছে নম্বর পাঠালে কম্পিউটারের প্রোগ্রামের মাধ্যমে রেজাল্ট তৈরি করে বিভাগে পাঠিয়ে দেই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টা তদারকি করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’
