বিয়ের প্রলোভনে সাত মাস ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীকে হত্যা

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৫, ১৮:৩০
খুলনার দাকোপ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে সাত মাস আটকে রেখে ধর্ষণের পর কীটনাশক প্রয়োগ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
রবিববার ভোর রাতে ওই স্কুলছাত্রী খুলনা নগরীর নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত তুলিকা মন্ডলের (১৭) লাশ অভিবাবকহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। লাশ উদ্ধার করে জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
 
নিহতের স্বজন সঞ্জিত মন্ডল জানান, দাকোপ উপজেলার লাউডোব ইউনিয়নের বাদামতলা গ্রামের রাজু রায় (২০) পার্শ্ববর্তী কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের শতরূপা গ্রামের মৃত অরুণ মন্ডলের মেয়ে তুলিকা মন্ডলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরই সূত্র ধরে গত প্রায় সাত মাস আগে রাজু বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে এসে তুলিকাকে আটকে রাখে।
 
ওই ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে রাজুর বাড়িতে গেলে তার বাবা দেবপ্রসাদ রায় বলেন, ‘তুলিকাকে তাদের পছন্দ হয়েছে, এ কারণে রাজুর সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে’
 
তুলিকার পরিবারের সদস্যরা বারংবার বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইলেও রাজুর পরিবার তাতে বাধ সাধে। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর পরিবারকে বিষয়টি বাড়াবাড়ি হচ্ছে বলে হুমকি দেয় রাজুর পক্ষের লোকজন।
 
সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর মোবাইল ফোনে তুলিকা কীটনাশক পান করেছে জানিয়ে রাজু তার ভাইকে খবর দেয়। এবং ‘তার অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তাকে নিয়ে যান’ উক্তি করেন। ঘটনার পরিক্রমায় শনিবার দিবাগত রাতে নগরীর বেসরকারি নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। নিহত ওই ছাত্রী উপজেলার এনএজিডি কান্তারাম মেমোরিয়াল হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
 
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জেলা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি হচ্ছে।