বাংলাদেশের বিয়ার গ্রিল হতে চান জাহাঙ্গীর

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৫, ১৬:৩৮
 
চেষ্টায় কি না হয়, দেখে ও শুনে শেখার মত কঠিন বিষয়কে বাস্তব জীবনে ব্যবহার করার এমনই অকল্পনীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছেন জয়পুরহাটের এক সাহসী যুবক জাহাঙ্গীর আলম। ডিসকভার টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত প্রচারিত দুর্গম ভ্রমণ বিষয়ক অনুষ্ঠানের প্রাণ পুরুষ বিয়ার গ্রিলের জ্যান্ত জীব-জন্তু খাওয়াসহ তার প্রতিকূল অবস্থায় চলাফেরার প্রায় সব অসম্ভব কর্মকাণ্ডগুলোর বেশ কিছুটা ইতোমধ্যেই শিখে তা জনসম্মুখে দেখিয়ে চলেছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি চান, শুধু উৎসাহ আর গনমাধ্যমে অংশ গ্রহণের একটু সুযোগ।
 
জয়পুরহাট শহরের আরাফাত নগর এলাকার ঈদগাহ কলোনীর বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলামের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার বড় ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ছোট বেলা থেকে বেশ চঞ্চল প্রকৃতির। অদম্য এই যুবক জয়পুরহাট সরকারি কলেজে বি এ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। দৌড়-ঝাঁপসহ নানা খেলায় পারদর্শী ও অত্যন্ত সাহসী এই যুবক এখন যে খানেই যাচ্ছেন তাকে ও তার আজব কর্মকাণ্ড এক নজর দেখার জন্য হুমরি খেয়ে পরছেন উৎসুক শিশু-কিশোর, যুবা-বৃদ্ধসহ সকল শ্রেনী পেশার সাধারন মানুষ।
 
IMG0
কাঁচা ব্যাঙ, কেঁচো, কাঁকরা, শামুক, কাঁচা মাংশ এমনকি বিষধর সাপসহ সকল জীবজন্তু জন সম্মুখে চিবিয়ে খেয়ে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন সবাইকে। একই মহল্লার যুবক মেহেদী, বাবু, জুলহাস, সবুজ, রাকিব, ওয়াসিক সহ অনেকেই জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর ছোট বেলা থেকেই সৃজনশীল প্রকৃতির। তিনি গত কয়েক মাস ধরে যে কোন জ্যান্ত জীব-জন্তু খাওয়ার অনুশীলন করে এখন সফল হয়েছেন।
 
জাহাঙ্গীর রাস্তা-ঘাট, হোটেল-রেস্তোরা যেখানেই যাচ্ছেন, কৌতুলী শিশু-কিশোর-যুবকরা তার পিছু পিছু ছুটছেন নতুন কিছু দেখার আশায়, যেন জাহাঙ্গীর এক জীবন্ত কিংবদন্তী কিংবা হ্যামিলনের সেই বাঁশি ওয়ালা। জয়পুরহাট সিও কলোনী এলাকার তরুন ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান মেহেদী, সোনারপট্রি এলাকার রোজা জুয়েলার্সের স্বত্তাধিকারী রেজাউল করিম রেজা এমন মন্তব্য করে আরো জানান, জাহাঙ্গীর যদি এ চর্চা অব্যাহত রাখেন এবং পৃষ্টপোষকতা পান তাহলে এক দিন এমন আরো অনেক অসাধ্যকেও সাধন করতে পারবেন।
 
শুধু  কাঁচা মাছ, মাংশ, ব্যাঙ, কাঁকরা, কেঁচো আর বিষধর সাপ খাওয়ার অভ্যাসই নয়, দুর্দান্ত সাহসী এই যুবক  দূর্গম এলাকায় প্রতিকুল পরিবেশে নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য গাছ ও ভবনসহ উঁচু উঁচু স্থান থেকে লাফিয়েও পড়তে পারেন বলে জানান এলাকাবাসী। যেন আমাদের দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত কমান্ডোদের ট্রেনিং গ্রহন করছেন এই যুবক, এমনটি জানালেন স্থানীয়রা। তাকে গনমাধ্যমে সুযোগ দেওয়ারও দাবি এলাকাবাসীদের। তার এমন দুঃসাহসীক কর্মকাণ্ড দেখতে প্রতিদিন জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতি দিনই আসছেন শতশত দর্শনার্থী।
 
IMG1
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা শহরের আতাউর রহমান, সেলিম ছরোয়ার খান শিপন, শাহারুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম লাইনর, আক্কেলপুর উপজেলা শহরের সফিউল আলম, পাঁচবিবি উপজেলা শহরের সুমন চৌধুরীসহ স্থানীয় অনেক সাংবাদিকরা জানান, দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী যুবক জাহাঙ্গীরকে গনমাধ্যমগুলোতে অংশগ্রহনসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন চ্যারিটি শো-তে অংশগ্রহনের সুযোগ দেওয়া হলে তিনি এক দিকে দেশের জন্য সুনাম ও প্রচুর অর্থ আনতে সক্ষম হবেন, অন্যদিকে প্রতিকূল পরিবেশে ও দুর্গত অঞ্চলের সাধারণ মানুষরা বেঁচে থাকার উৎস ও উপায় শিখতে পারবেন।
 
প্রখর ইচ্ছা শক্তির অধিকারী  যুবক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডিসকভারি টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত প্রচারিত দুর্গম ভ্রমণ বিষয়ক অনুষ্ঠানের মধ্যমুনি বিয়ার গ্রিলের অনুকরণে তিনি সেগুলোর অভ্যেস গড়ে তুলছেন। বাংলাদেশ আর্মিতে প্যারা কমান্ডো প্রশিক্ষনসহ গনমাধ্যমে তাকে সুযোগ দেওয়া হলে তিনিও দেশের জন্য সুনাম ও অর্থ বয়ে আনতে পারেন বলে দৃঢ় আশাবাদী এই যুবক।
 
জয়পুরহাট শহরের তরুন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, শিক্ষা, সংস্কৃতির সেবাসহ দরিদ্র মানুষের জন্য আমার সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। সেই ধারাবাহিকতায় প্রয়োজনে জয়পুরহাটের সৎ সাহসী যুবক জাহাঙ্গীর আলমকেও সার্বিক সহায়তা করারও আশ্বাস দিচ্ছি।'
 
ব্যাক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি তাকে সরকারি-বেসরকারি সুযোগ দেওয়া হলে তিনিও দেশের সিমানা ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও জন্য সুনামসহ বৈদেশিক মুদ্রা আনতে সক্ষম বলে মনে করেন সমাজকর্মী মোস্তাক।  শুধু এই সমাজকর্মীই নয় তাকে প্রয়োজনীয় সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জয়পুরহাটবাসী।