‘দেশে ১ কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী অধিকারবঞ্চিত’

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৫, ১৮:৩০
 
দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষায় উদ্যোগের ঘাটতিতে দেশের এক কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী নানাভাবে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইনের বাস্তবায়ন না হওয়া, বাজেটে বরাদ্দ না থাকা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে ধারণা না থাকায় বৃহত্ এই জনগোষ্ঠী অধিকার বঞ্চিত।
 
‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রতিবন্ধী: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ নিয়ে আলোচনায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার ঢাকার বিআইএসএস মিলনায়তনে এই আলোচনার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশ ও সিএসআইডি।
 
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. রেজাউল হক। আরো বক্তব্য রাখেন—ডিজ্যাবিলিটি কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী সদস্য মনসুর আহমেদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, একশনএইড বালাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির প্রমুখ।
 
মূল প্রবন্ধে বলা হয়—বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী। এই প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৮ সালে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী সুরক্ষা সনদে স্বাক্ষর করেছে। ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন হয় বাংলাদেশে। এর পরও সচেতনতা, পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার না থাকা, আইন ও নীতির বাস্তবায়ন না হওয়া, বাজেটে অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে প্রতিবন্ধী মানুষগুলোর খারাপ অবস্থা।
 
ডিজ্যাবিলিটি কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী সদস্য মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর আর দেশে আইন থাকা সত্ত্বেও প্রতিবন্ধীরা অধিকারবঞ্চিত থাকছেন শুধু নীতিগুলোর বাস্তবায়নের অভাবে। সে কারণে দেশের প্রায় ১৫ ভাগ প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন ও চলাফেরায় নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য ১৭০ ট্রিলিয়ন ডলার লাগবে। এর মধ্যে মাত্র আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এসডিজি পরিকল্পনায় ৪, ৮, ১০, ১১ এবং ১৬ লক্ষ্যমাত্রায় প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি আছে। আর এই জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করতে হলে অর্থের দরকার হবে।
 
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবন্ধীদের মধ্যে মিষ্টি আক্তার বলেন, ‘বাসা থেকে এই অনুষ্ঠানে আসতে আমাকে ১৫-২০ গুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে। এবারের বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। তবে এখনো কোনো পরিবহনে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য সুযোগ-সুবিধা চালু করা হয়নি।
 
সালমা মাহবুব বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধীদের সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে ধারণা খুবই কম। শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো কাজে গেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কথা বলে দেয়। বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা না ভেবেই উন্নয়ন চিন্তা করছে নীতিনির্ধারকরা।’
অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, ‘আমাদের বাজেট আসলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি-বান্ধব না। চলমান অর্থবছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে সামাজিক উন্নয়ন খাতে। এর মধ্যে ৩৬০ কোটি টাকার রাখা হয়েছে প্রতিবন্ধীদের জন্য। সেটাও পরিকল্পনা মাফিক না। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে পরিকল্পনা করতে গিয়ে আমরা সঠিক তথ্য নিয়ে ভীষণ সমস্যায় পড়ছি। আমাদের হাতে ২০১০ সালের ডাটা বা তথ্য আছে, সেটাও সঠিক না।’