'সিটি কর্পোরেশনকে নিজস্ব আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে'

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৫, ১৯:৩৯
 
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি জনগনের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে নিজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ভবনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মিলনায়তনে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পর্যায়ক্রমে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার অংশ হিসেবে ২৬ নং ওয়ার্ড ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনয়ন কার্যক্রমের উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
 
ডিসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আ. মালেক, অতিরিক্ত সচিব জুয়েনা আজিজ ও ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বেলাল হোসেন।
 
সভায় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএসসিসি'র ৪ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি ও ২৩ নং ওয়ার্ডের সাধারণ আসনের কাউন্সিলর মো. হুমায়ুন কবির। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, নতুন বেতন কাঠামো ঘোষনায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুন হয়ে গেছে। এ বেতন বৃদ্ধির ঢেউ সিটি কর্পোরেশনের ওপরও পড়বে। তিনি বলেন, আপনাদের নিজস্ব আয় বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আর পরোক্ষ কর বৃদ্ধি করে সিটি কর্পোরেশনের আয় বাড়ানোর জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করবে।
 
তিনি বলেন, ডিএসসিসি’র দাবি অনুযায়ী ওয়াসার আয়ের ন্যায্য হিসাব যাতে সিটি কর্পোরেশন পায় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মোশাররফ বলেন, ঢাকা মহানগরীর যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে তা একটি বিরল ঘটনা। কেননা এত দ্রুত নগরায়ন পৃথিবীর আর কোথাও হয়নি। তিনি বলেন, দ্রুত এ নগরায়নের প্রস্থতি আমরা সেভাবে গ্রহন করতে পারিনি। যার জন্য ঢাকা মহানগরীকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্চে। এ বিষয়ে মোশাররফ বলেন, ডিএসসিসি যেভাবে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কথা ছিল সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে সেভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয় নি।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে সরকারের টাকা বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকার গ্রহন করেছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করলে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে।
 
মোশাররফ হোসেন দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকারর নির্বাচনের বিষয়ে বলেন, দেশের রাজনীতিতে এটি একটি আমূল পরিবর্তন। কারণ স্থানীয় সরকারে কেন্দ্রীয় সরকারের আদর্শ প্রতিফলিত হবে। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটবে। মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট ভিত্তিক একটি জরিপ সংস্থা বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
 
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে কোন লাভ হবে না। ঢাকার মানুষ শান্তিতে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কেউ রাজধানীর উন্নয়নকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার জন্য একটি টিম করে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
 
এর আগে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ডিজিটাল তথ্য বাতায়ন উদ্ধোধন করেন। ফোকাস বাংলা।