রাণীনগরে চালককে হত্যা করে মাইক্রোবাস ছিনতাই, গ্রেফতার ৫

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৫, ১৯:১৫
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চালককে হত্যা করে মাইক্রোবাস ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাকুরিচ্যুত এক সেনা সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকালে আসামিদের হামলায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে এক রাউন্ড শটগানের গুলি করে আসামিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ছিনতাই হওয়া চালকের মোবাইল ফোন ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
 
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ খাঁন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলার বেলঘড়িয়া বাজার হতে ওই এলাকার রঞ্জনিয়া গ্রামের ফিরোজকে (২৫) গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকালে ফিরোজের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া চালকের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। একই গ্রামের আফসার সরদারের ছেলে একরাম সরদারকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। এরপর গ্রেফতারদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এলাকার করজগ্রামের জিল্লুর রহমানকে (২২) এবং কাচারী বেল ঘড়িয়া গ্রামের রদিউল ইসলাম (১৮) ও আবাদপুকুর এলাকার মুন্সিপুর গ্রামের খলিলুর রেজা মামুনকে (৩৯) গ্রেফতার করে পুলিশ। 
 
ওসি জানান, খলিলুর রহমানকে গ্রেফতারকালে হামলা চালালে পুলিশের এসআই শফিকুর রহমান ও কনস্টেবল আবুল কালাম আজাদ আহত হন। এ সময় পুলিশের শটগানের গুলি ছুড়লে খলিলুর রহমানের হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হলে তাকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। আহতদের রাণীনগর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গ্রেফতারকালে পুলিশ খলিলুর রহমানের বাড়ি থেকে একটি ধারালো সামুরাই, একটি হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করেন। 
 
ওসি জানান, হত্যা ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার আসামিরা। 
 
উল্লেখ্য, ৮ নভেম্বর নওগাঁ উপ-শহরের আক্কাছ আলীর ছেলে মাইক্রোচালক রহিদুল ইসলামকে (৩০) ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রী নিয়ে যাবার কথা বলে রাণীনগর থানার দেওলিয়া গ্রামের ত্রিমোহনী ব্রিজের কাছে নিয়ে এসে হাত-পা, মুখ বেঁধে হত্যার পর লাশ খালের পানিতে ফেলে মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পুলিশ পরের দিন লাশ উদ্ধার করে এবং ১১ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর সদরের উত্তর মধুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাইক্রোবাসটি জব্দ করে।