নেত্রকোনায় হত্যা মামলায় ৫ ভাইবোনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৫, ১৪:১৩
নেত্রকোনায় একটি হত্যা মামলায় পাঁচ ভাইবোনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো দুইবছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল হামিদ এ রায় দেন।
 
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নাটোর জেলার বড়াইগ্রামের মৃত আঃ মন্নাফের মেয়ে তাহমিনা, চার ছেলে দুলাল, হায়দার, চাঁন মিয়া এবং রায়হান।
 
অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় মামলার প্রধান আসামি আঃ ছালামসহ ১২ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে তাহমিনা, দুলাল এবং হায়দার পলাতক রয়েছেন।
 
উল্লেখ্য, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাও গ্রামের আখতার আলী সাথে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মামলাও চলছিল। এর জের ধরে ১৯৯৮ সালের ২৫ নভেম্বর আসামিরা আখতার আলীকে গুলি করলে, ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।
 
মামলা সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের আখতার আলীর সাথে একই এলাকার আঃ ছালামের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। আঃ ছালাম জমি সংক্রান্ত মামলায় আখতার আলীর সাথে না পেরে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার শিবপুর থেকে কলমাকান্দায় আগত মৃত মন্নাফের সন্তানদের জায়গা জমি দেবার লোভ দেখিয়ে আখতার আলীকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করে। ১৯৯৮ সনের ২৫ নভেম্বর আব্দুস ছালামের নেতৃত্বে পুরুষ বেশে তাহমিনাও তার ভাই এবং অন্যান্যরা সকালে আখতারের বসত ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তাহমিনা পিস্তল দিয়ে আখতারের মাথা লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোঁড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই আখতার মারা যায়। গুলি করার সময় তাহমিনার পরিধানে ছিল লুঙ্গী, শীতবস্ত্র এবং মাথায় মাফলার। 
 
ঘটনার দিনই আখতারের মেয়ে অরুণা খাতুন বাদী হয়ে আব্দুস ছালামকে প্রথাধ আসামি করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে কলমাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৪ সনের ১২ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। 
 
মামলার ১৬ বছর পর আদালত এই রায় দেয়।
 
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, এপিপি এডভোকেট মোঃ আজম খান এবং আসামি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট পীযু কুমার সাহা ও এডভোকেট শামছুদ্দিন আহমেদ।