অপহরণের ২২ দিনেও খোঁজ মেলেনি মাদরাসা শিক্ষক সুমনের

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৫, ১৬:৪৫
 
মানিকগঞ্জ থেকে অপহরণের ২২ দিন পরও খোঁজ মেলেনি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাদরাসা শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম সুমনের। ৪ নভেম্বর মধ্যরাতে অজ্ঞাত ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত মানিকগঞ্জ জেলা সদরের দারুল উলুম মাদরাসার দেওয়াল টপকে ভিতরে ঢুকে তাকে অপহরণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
অপহৃত সুমন উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মুন্সীর ছেলে। অপহরণের ২২ দিন পরও সুমনের খোজঁ না পাওয়ায় হতাশ তার পরিবারের লোকজন। সুমনের খোঁজ পাওয়ার আশায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে সুমনের পরিবার। গত মঙ্গলবার বিকালে  বাগেরহাটের শরন খোলায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একব্যক্তি আটঘর ইউপি চেয়ারম্যানকে সুমনের অবস্থান জানিয়ে ফোন করলেও সে তথ্য ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।
 
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মানিকগঞ্জ দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মওলানা ওবায়দুল্লাহ বলেন, দেড়মাস আগে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে ৪-৫ জন লোক মাদরাসায় এসে এ মাদরাসার ইবতেদায়ী বিভাগের শিক্ষক সুমনের ব্যাপারে খোঁজ  নেয়। ৪ নভেম্বর মধ্য রাতে অজ্ঞাত ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত মাদরাসার দেওয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে সুমনকে অপহরণ করে একটি মাইক্রবাসে তুলে নেয়। ঘটনার পরই আমি কোতয়ালী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। এরপর আমি কোতয়ালী থানায় একটি জিডি করতে চাইলে পুলিশ এতে আগ্রহ দেখায়নি।
 
সুমন কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, আমি তাকে কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখিনি। তবে ফেসবুকের প্রতি তার প্রচুর নেশা ছিল।
 
এ বিষয় অপহৃত সুমনের বড় ভাই বাহারুল আলম বাচ্চু বলেন, খবর পেয়ে আমি মাদরাসায় যাই। ঘটনা বিস্তারিত জেনে সুমনের খোঁজ পেতে আমি থানা, র‌্যাব ও ডিবি অফিসে যোগাযোগ করি। তারা আমার ভাইয়ের ব্যাপারে খোঁজ দিতে পারেনি। কি কারণে কারা সুমনকে অপহরন করেছে সেই ক্লু আমি এখনও পাইনি। সুমনের খোঁজ না পেয়ে আমরা খুবই হতাশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছি। কখন তারা সুমনের খোঁজ দিবে। এ বিষয় আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, সুমনের খোঁজ পাওয়া গেছে এমন খবর জানিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে ০১৯১৮৮১৮৫২২ নম্বর থেকে বাগেরহাটের শরন খোলার এক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে জানান, সুমন শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। হুমায়ুন কবির ও বাবুল দাস নামের শরন খোলার ২ সংবাদিক শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিলাম। এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি করেছি।  সব থানায় মেসেজ পাঠিয়েছি। সালথা থানায় খোঁজ নেন সেখানেও মেসেজ পাঠিয়েছি। সুমনের খোঁজ পেলে সাথে সাথেই তার পরিবারকে জানান হবে।
 
এই তথ্য জানতে সালথা থানার ইনচার্জ (ওসি) ডিএম বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমন কোন মেসেজ আমার কাছে আসেনি। একপর্যায় ওই ওসির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আরো বলেন, কিসের মেসেজ পাঠাবে সে। সে তো সুমনের পরিবারের অভিযোগই গ্রহন করেনি।