সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেট। আউট ফিল্ড থেকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। তার ওপর টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। ওয়েলিংটনের সকালে সব ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই পড়েছিল বাংলাদেশ।
অথচ, বেশ ভালো একটা সূচনা এনে দিতে পেরেছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল খান ও সাদমান ইসলাম। দুজন মিলে যোগ করতে পারেন ৭৫ রান। সেখান থেকে ইনিংসটা প্রথম দিন শেষে যেখানে থাকার কথা ছিল সেখানে আর নেই। মাত্র ২১১ রানে অল আউট হয়েছে সফরকারীরা।
মুমিনুল হক (১৫), সৌম্য সরকার (২০), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১৩) ও লিটন দাস (৩৩) —প্রত্যেকেই ভালো একটা শুরু করেছিলেন। কিন্তু, উইকেটে সেট হয়ে যাওয়ার পর হয় ছন্দপতন। এর পেছনে মনোযোগের অভাবকে দায়ী করছেন লিটন দাস। যদিও, দিন শেষে আবু জায়েদ রাহির জোড়া আঘাত হানার সুবাদে এখনো স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
বললেন, ‘দুই দিন খেলা হয়নি। তার পর খুব ভালো একটি শুরু পেয়েছিলাম আমরা। যে রকম শুরু হয়েছিল, আরেকটু ভালো করা যেত। ব্যাটসম্যানরা আরেকটু মনোযোগ দিয়ে খেললে আরও ভালো হতো। এরপরও দিনের শেষে ওদের দুটি উইকেট নিতে পেরেছি। এটা ভালো দিক।’
উইকেটে বাড়তি ঘাসের উপস্থিতি থাকার পরও এখানে খেলাটা খুব একটা কঠিন ছিল না বলেই মানছেন লিটন। এই প্রসঙ্গে তিনি তামিম ইকবালের ইনিংসের উদাহরণ টানলেন। তামিম ১১৪ বল খেলে ১০টি চারের সৌজন্যে করেন ৭৪ রান।
লিটন মনে করছেন মনোযোগের অভাবেই তামিম ছাড়া বাকিরা ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উইকেট ভয়ঙ্কর ছিল বলব না। তবে কন্ডিশন তো বোলারদের পক্ষে ছিল। এ রকম কন্ডিশনে ব্যাটসম্যানের ফোকাস ভালো থাকলে সফল হওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। তামিম ভাই ফোকাসড ছিলেন, সফল হয়েছেন।’
হ্যামিল্টনের মতো ওয়েলিংটনেও শর্ট বলে নাকাল হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। শর্ট বলে আরও কৌশলী হওয়ার কোনো উপায় আপাতত নেই বাংলাদেশের কাছে। লিটন বলেন, ‘নতুন বলে আমরা যেমন জানি সুইং করবে, এরপরও আমরা অনেক সময় মারতে গিয়ে আউট হয়ে যাই। তেমনই আমরা জানি সে শর্ট বল করবে। কিন্তু বলটা এমন জায়গায় রাখে, কিছু করার থাকে না। এখানে মনোযোগ আরও বাড়িয়ে বল আরও বেশি ছাড়লে হয়ত কিছু করা যাবে।’
দিনের শেষ বেলায় নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন আবু জায়েদ রাহি। মাত্র আট রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। লিটন বললেন, ‘এই উইকেট থেকে সবাই সাহায্য পাবে। মূল ব্যাপার হলো জায়গা মতো বল ফেলতে পারা। এবাদত ও জায়েদ ভালো করেছে। জায়গামতো বল ফেলতে পারলে আমরাও এগিয়ে যাব।’
দু’দিন বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও টেস্টের যা অবস্থা তাতে ফলাফল চলে আসলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকছে না। লিটনও এই বাস্তবতা বুঝলেন। তিনি তাকিয়ে আছেন আজকের দিকে। বললেন, ‘কেবল প্রথম ইনিংস গেল, ফলাফল আসতেও পারে, আবার নাও আসতে পারে। কালকের (আজ) দিনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’
