ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রয়েছে ৩৭টি ইটভাটা। উপজেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে ৩২টির তালিকা। বাকি ৫টির কোন তথ্য নেই। এর মধ্যে ২৯ টিই অবৈধ। কয়েকটি ভাটার মালিক মাটি সংগ্রহ করছে সওজ ও খাস জায়গা থেকে। সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগগুলোকে ম্যানেজ করে এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই নিশ্চিন্তে ইট পুড়ছেন মালিকরা।
জানা যায়, উপজেলার কালিকচ্ছ, শাহবাজপুর, শাহজাদাপুর ও চুন্টা ইউনিয়নেই গড়ে উঠেছে ঐসব ইটভাটা। তবে অধিকাংশ ভাটাই গড়ে উঠেছে ফসলি জমির মাঝখানে ও বাড়িঘরের পাশে। ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমির। কষ্টে সময় পার করছেন বসতবাড়ির লোকজন। অথচ তাদের নেই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, উৎপাদন অনুমতি ও ট্রেড লাইসেন্স। শ্রম আইনও মানছেন না তারা।
বেশির ভাগ ভাটার চিমনিতে রয়েছে ত্রুটি। যে ৮টির কাগজপত্র রয়েছে সেগুলোর অনুমতিও প্রশ্নবিদ্ধ। বেশ কয়েকটি ভাটা সওজ ও খাস জায়গা থেকে মাটি কাটছেন দেদারছে। সেই মাটি নিচ্ছেন ইটভাটায়। কেউ কেউ অনুমতি ছাড়াই সরকারি জায়গা ও খাল দখল করে গড়ে তুলেছেন ভাটা। সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের পশ্চিম পাশে সরকারি জায়গা ও খাল দখল করে তৈরি করছেন আশা নামক ইটভাটা। পূর্ব পাশে পিবিসি নাম দিয়ে আরেকটি ভাটায় পুরোদমে চলছে উৎপাদন। তাদের নেই কোন কাগজপত্র বা অনুমতি।
ভাটার মালিক শফিকুর রহমান জানান, আমাদের সকল কাগজপত্র প্রক্রিয়াধীন, শুধু উৎপাদন রানিং। তাদের পাশেই সওজে’র জায়গা থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে বেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভাটায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের বাঁধা দিয়েছেন। গত ২৫ নভেম্বর উৎপাদন কাজ বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন সহকারি কমিশনার (ভূমি)।
এ সড়কের পাশে কাগজপত্র বিহীন আরেকটি ইটভাটার নাম রিফান ব্রিকস। সেখানেও অবৈধ ভাবে চলছে উৎপাদন। সরকারি জায়গা দখল করে দিয়েছেন মাটির স্তুপ। শাহজাদাপুরে রয়েছে একাধিক অবৈধ ইটভাটা। এর মধ্যে তৃষা ব্রিকস শাপলা বিল সংলগ্ন খাস জায়গার মাটি কাটছেন দিনরাত। গোচারণ ভূমি কেটে তৈরি করছেন খাল।
উপজেলা প্রশাসনের ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বরের তালিকা সূত্রে জানা যায়, শুধু শাহবাজপুরেই রয়েছে ১২ টি অবৈধ ইটভাটা। এগুলোর অধিকাংশই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে। বেশ কয়েকটি ভাটা ভ্রাম্যমান আদালতে পড়ে দিয়েছে জরিমানা। শাহজাদাপুরে ৫টি, চুন্টায় ৪টি, নোয়াগাঁও-এ ৩টি, পানিশ্বরে ১টি ও কালিকচ্ছে ৪টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মালিক জানান, জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত ম্যানেজ করেই উৎপাদন শুরু করেছি। বৈধ কাগজ না থাকলে কি হবে আমাদের খরচের কোন শেষ নেই। সরাইল উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মইনুল আবেদীন বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তালিকা করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
