নাটোরের সিংড়ার সুকাশ হাইস্কুলে অবৈধ পন্থায় শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউর রহমান সরকারকে বেধড়ক মারপিট করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।
জানা গেছে, শনিবারের এ ঘটনার সময় ওই শিক্ষক আত্মরক্ষার জন্য নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পিছু ধাওয়া করে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষককে ধরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। তারা তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না।
এলাকাবাসী জানায়, সুকাশ হাই স্কুলে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চলতি বছরের ৩০ মার্চ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১০ জুন ওই পদে ২৮ জন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু দীর্ঘ ছয় মাসেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। বরং ওই পদের জন্য বিভিন্ন প্রার্থীর কাছে আট থেকে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এরই মধ্যে নিয়োগ বিধি অনুসারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে ছয় মাস অতিবাহিত হলেও শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ার কারণে শারফুল ইসলাম নামে এক প্রার্থী ওই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলসহ নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর সিংড়ার সহকারী জজ আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন। আদালতের বিচারক স্থিতাবস্থাসহ কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে কারষ দর্শানোর নির্দেশ দেন। আদালতের ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ অক্টোবর কমিটি আগের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মজনু আহমেদ নামে এক প্রার্থীকে ওই পদে অবৈধ পন্থায় নিয়োগ দিতে প্রধান শিক্ষক শফিউর রহমান সরকারকে চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের হুমকির মুখে শনিবার স্কুল পরিচালনা কমিটির এক সভা আহ্বান করা হয়। সভাপতির বাড়িতে এই সভা চলাকালীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সভাপতির ছোট ভাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল আওয়াল, আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলামসহ তাদের সমর্থকরা অযাচিতভাবে ওই সভায় প্রবেশ করে মজনু আহমেদের নিয়োগ পত্রে প্রধান শিক্ষককে স্বাক্ষর করতে বলেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষকের দিকে যুদ্ধাংদেহী মনোভাবে তেড়ে যায় এবং মারপিট করে। এতে প্রধান শিক্ষক রক্তাক্ত জখম হন। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি সভাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তার পিছু ধাওয়া করে।
প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এ কারণে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু তারা অবৈধ পন্থায় তাদের মনোনীত প্রার্থীকে তড়িঘরি করে নিয়োগ দিতে বাধ্য করতে চায়। এতে রাজি না হওয়ায় তারা সভায় প্রকাশ্যে তাকে মারপিট করে।
তবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম আব্দুল হাই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'প্রধান শিক্ষক তাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন এবং তাকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় বাক্বিতণ্ডাসহ ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে বলেন, 'প্রধান শিক্ষকই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এজন্য বিক্ষুব্ধ কিছু লোক প্রধান শিক্ষককে চড় থাপ্পর দেয়।'
ঘটনার সত্যতা জানতে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন ফুনুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে লোকমান হোসেন জানান, তার বাবা অসুস্থ হওয়ায় কথা বলতে পারছেন না।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসি নাছির উদ্দিন মন্ডল বলেন, 'ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর জানা নাই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
