অভিবাসনের (মাইগ্রেশন) মাধ্যমে বাংলাদেশে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মের সন্ধানে যান তাদের মাধ্যমে বেশি এইডস ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, সরকারি- বেসরকারি অর্থায়ন বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের এইডস আক্রান্তের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য মতে, যারা বিদেশে কাজ করতে যান তাদের প্রায় ৩০ শতাংশ দেশে এসে এইডস ছড়ায়।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডি আহছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য তুলে ধরেন সেভ দ্য চিলড্রেনের উপ-পরিচালক শেখ মাসুদুল আলম।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে ৫০ শতাংশ টার্গেট গ্রুপকে কভারেজের আওতায় আনার চেষ্টা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও টিবি রোগ থেকে এইডস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ২০০৪ সাল ও ২০০৯ সালে বাংলাদেশে সাইজ এস্টিমেশন হয়েছিল। এ বছর গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে সাইজ এস্টিমেশনের কাজ চলছে।’
জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক শাখা ইউএনএইডসের তথ্য মতে, সারাবিশ্বে তিন কোটি ছয় লাখ ৯০ হাজার মানুষ এইডস আক্রান্ত। ২০১৪ সালে ২০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু এইডস আক্রান্ত হয়েছে। ২০০০ সালের তুলনায় এইডস আক্রান্তের হার ৩৫ শতাংশ কমেছে। ২০০০-১৪ সাল পর্যন্ত অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ৭০ লাখ ৮০ হাজার এইডস আক্রান্ত মানুষকে বাঁচানো গেছে। ২০০৪ সাল থেকে ১০ লাখ ২০ হাজার মানুষ এইডস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যা এইডসে মৃত্যু হারের চেয়ে ৪২ শতাংশ কম। ২০১৪ সালে দুই লাখ ২০ হাজার শিশু নতুন করে এইডস আক্রান্ত হয়েছে। ২০১৪ সালের এন্টি রেট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ১০ লাখ ৪০ হাজার শিশু সুস্থ হয়েছে। ২০১৪ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তিন লাখ ৪০ হাজার মানুষ নতুন করে এইডস আক্রান্ত হয়। ২০০০-১৪ সাল পর্যন্ত নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার অনুপাতে যা ৩১ শতাংশ কম।
বাংলাদেশে ৩০৯ জন শিশু যাদের বয়স ০-১৪ বছর মূলত জন্মগতভাবেই এইডস আক্রান্ত। এদের মধ্যে ২০১৪ সালে ৬৩ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের ২০৮ জনকে অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল চিকিৎসা দেয়ার প্রয়োজন থাকলেও মাত্র ৭৯ জনকে এ সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ২০১৪ সালে এইডস আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ শতাংশ নারী। এইডস মুক্ত সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে ১৩৮ গর্ভবর্তী মায়ের চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ২৫ জন।
সিরিঞ্জের মাধ্যমে যারা মাদক সেবন করেন তাদের এইডস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ২৮ শতাংশ বেড়ে যায়। যৌনকর্মীদের মাধ্যমে ১২ শতাংশ বাড়ে। ১৯ শতাংশ বাড়ে সমকামীতার মাধ্যমে। ৪৯ শতাংশ বাড়ে হিজড়াদের মাধ্যমে।
শেখ মাসুদুল আলম জানান, ১৭২টি সেন্টারের মাধ্যমে ১৪ হাজার মাদকাসক্ত, ২৮ হাজার ৬০০ যৌনকর্মী, এক হাজার ১০৬ এইচআইভি আক্রান্তকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়েছে। এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে সারাদেশে ১০১ টি এসটিসি সেন্টার তৈরির কাজ চলছে। যেন এ সব সেন্টারগুলো থেকে এইচআইভি আক্রান্তরা পুরো চিকিৎসা পায়।
তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয় পদ্ধতির সঙ্গে যদি এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা সংযোজন করা যায় তাহলে এইচআইভি নির্ণয় করাটা আরো সহজ হবে। কিন্তু বাংলাদেশে যখন এইচআইভি আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে তখন অর্থ বরাদ্দ কমে যাচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর বলেন, ‘মাদরাসা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্কুলে এ বার্তাটা পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের রক্ষণশীলতার জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আইন করার পরও কিন্তু বাল্য বিয়ে রোধ করা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমগুলোকে কমিটমেন্টের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘১৯৮১ সালে প্রথম এইডস আবিষ্কার হয়। বাংলাদেশ এইডস আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বাঁচতে হলে জানতে হবে- মিডিয়ার এই প্রচারটাই অনেক কাজ হয়েছে। এ প্রচারের জন্যই বাংলাদেশে এইডস আক্রান্তের হার কমেছে। যারা বিদেশে কাজ করতে যান তার প্রায় ৩০ শতাংশ দেশে এসে এইডস ছড়ায়।’
আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, মিশনের উপ-পরিচালক ইকবার মাসুদ। প্রিয় ডটকম।
