কুমিল্লায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৫, ১১:৩০
কুমিল্লায় যৌতুক না পেয়ে মনি বেগম (২২) নামের এক গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। বুধবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের দলকুইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকে তার স্বামী রফিকুল ইসলাম ভুলুসহ অন্যান্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। 
 
জানা যায়, জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের দলকুইয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ৩বছর আগে একই উপজেলার পালপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে সুমি বেগমের বিয়ে হয়। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। 
 
সুমির পরিবারের সদস্যরা জানায়, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ চলচিল। বুধবার দিবাগত রাতে মনির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিট এবং পরে রাত পৌনে ২টার দিকে ঢামেকের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করে। 
 
তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে। মনি বেগমের ২ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। 
 
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মির্জ্জা মু. তাইয়েবুল ইসলাম জানান, ওই নারীর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেকের বার্ণ ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।