পাখিদের আপ্যায়নে 'পাখি দা' জয়দেবের সকাল

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৬:১৪

ভোরের সূর্য ওঠার আগে আহারের আশায় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা আসে। পাখিপ্রেমী জয়দেবের চারপাশে তখন পাখিদের ডানা ঝাপটানোর শব্দ, আর কিচির মিচির ডাকে মুখরিত। প্রতিবেশীদেরও ভোরে ঘুম ভাঙায় পাখিরা। এসব পাখি জয়দেবদের সকালের অতিথি হয়ে আসে। নিত্যদিনের অতিথি পাখিদের আপ্যায়নে নিমগ্ন হয় জয়দেব।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার দক্ষিণবাজার সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে রোজ ভোর বেলায় বসে পাখির এমন অতিথিশালা। স্থানীয় ব্যবসায়ী গোবিন্দ রায় ও তার ছেলে জয়দেব রায় প্রতিদিন সকালে কয়েক শত পাখিকে খাবার দেন। সকাল হলেই এখানে চলে আসে পাখিগুলো। আবার খাবার খেয়ে চলেও যায়। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এভাবেই চলছে পাখি আপ্যায়নের কার্যক্রম। প্রতিদিন ভোর বেলায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পাখিরা এখানে আসে। তখন পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারিধার।

IMG0

জয়দেব বলেন, ‘মাঝখানে হঠাৎ করে পাখির আনাগোনা একটু কমে গিয়েছিল। আমরা এর কারণটি বুঝতে পারিনি কেন পাখি আসা কমে গেছে। কিন্তু কিছুদিন পরই আবার ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসা শুরু হয়। ভোর ৫টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৬টার মধ্যে খাবার দিয়ে দেই।’

খাবার দেয়া শুরু করলে ওরা আসে না আগেই চলে আসে? এমন প্রশ্নের জবাবে জয়দেব বলেন, ‘ওই সময়ই চলে আসে। আমি আসি বা না আসি। আমরাও এই টাইমেই চলে আসি খাবার দিতে। মূলত সময়টা হলো ভোরের আলো যে সময়টাতে ফুটতে শুরু করে ঠিক সেই সময়টাতেই ওরা সব চলে আসে।’

জয়দেবদের একটি রেস্টুরেন্ট আছে। নাম স্বর্ণচূড়া। ওই রেস্টুরেন্ট থেকেই তৈরি করা হয় পাখিদের খাবার। খাবার দেয়া হয় স্বর্ণচূড়া রেস্টুরেন্ট থেকে কিছুটা দূরের ফাঁকা জায়গায়। পাখিদের খাবার দেয়া শেষ হলেই খুলে যায় রেস্টুরেন্ট।