সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজপরিবার সম্পর্কে কথাবার্তা বলা বা মন্তব্য করার ক্ষেত্রে নীতিমালা বেঁধে দিয়েছে কেনসিংটন প্রাসাদ। রাজপরিবারের সম্মান রক্ষার্থে প্রাসাদ কর্তৃপক্ষ তাদের দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে গত ৪ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজপরিবার বা পরিবারের কোনো সদস্য সম্পর্কে কী জাতীয় কথাবার্তা বলা যাবে না বা যাবে তার একটা গাইডলাইন বা নীতিমালা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজপরিবারের ছোট বউ ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল সম্পর্কে বিগত কয়েক মাস ধরে অনলাইনে নানা আপত্তিকর ও অসম্মানজনক মন্তব্য আসার পরই প্রাসাদ থেকে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হলো। বিবৃতিতে বলা হয়, তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটা সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন যেখানে এই মাধ্যমে যোগদানকারী সদস্যরা পরস্পরের প্রতি সম্মান ও ভদ্রতা বজায় রেখে চলবেন। বিবৃতিটি দেওয়া হয় দ্য ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অব কেমব্রিজ অর্থাত্ প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী ক্যাথারিন এবং দ্য ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অব সাসেক্স অর্থাত্ প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেলের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে।
এতদিন পর্যন্ত অনলাইনে রাজপরিবার সম্পর্কে কোনো খবর বা ছবি এলে রাজপ্রাসাদ থেকে এ নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য করা হতো না। মাঝে মাঝে কোনো খবরে পরিবেশিত তথ্য অস্বীকার বা খবরের নেতিবাচক শিরোনাম সম্পর্কে আপত্তি করা হতো মাত্র। কিন্তু বর্তমান বিবৃতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজপরিবার সম্পর্কে কোনো তথ্য বা ছবি পরিবেশনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলতে বলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজপরিবারের সদস্যরা চাচ্ছেন এমন একটি অনলাইন কমিউনিটি তৈরি করতে যাতে কমিউনিটির সদস্যরা সুস্থ বিতর্ক করতে পারবেন, স্বচ্ছন্দে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও মন্তব্য করতে পারবেন, নানা বিষয়ে দিতে পারবেন পরামর্শ। তবে এসবই করতে হবে পরস্পরের প্রতি যথাযথ সম্মান, বিনয় ও ভদ্রতা বজায় রেখে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, রাজপরিবার সম্পর্কে এমন কোনো মন্তব্য করা যাবে না যাতে কারো সম্মানহানি হয় বা তার সম্পর্কে কেউ ভুল বুঝতে পারে। এছাড়া রাজপরিবারের কারো সম্পর্কে কোনো অশ্লীল, আপত্তিকর, আক্রমণাত্মক, জ্বালাময়ী বা অবমাননাকর মন্তব্য, কাউকে হুমকি প্রদান বা কারও প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা যাবে না। এমন কোনো মন্তব্যও করা যাবে না যেটি যৌন উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়াতে সহায়তা করতে পারে। তা ছাড়া জাতিগত বিদ্বেষ সৃষ্টি, নারীপুরুষে বৈষম্য ও ধর্মীয় বৈষম্য বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে এমন মন্তব্যও করা যাবে না। শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে বা কারো বয়স নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করা যাবে না।
কেনসিংটন প্রাসাদ থেকে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয় যে, তাদের এ সব বেঁধে দেওয়া নিয়ম কেউ ভঙ্গ করলে তাকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে। প্রাসাদ কর্তৃপক্ষ অনলাইনে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য পেলে তা ব্লক করে দেবেন বা মুছে ফেলবেন বলেও সতর্ক করে দেন। তা ছাড়া কারো কোনো মন্তব্য সন্দেহজনক মনে হলে তারা বিষয়টি তদন্তের ভার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। রাজপ্রাসাদ থেকে এমন কড়া বিবৃতি আসার পর এখন রাজপরিবার নিয়ে হাসিঠাট্টা বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার প্রবণতা অনলাইনে কমবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।
