রামগড়ে সমাজসেবা বিভাগের দুই কর্মীকে আটকে রেখে নাজেহাল

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫, ২১:৫৩
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় ঋণের জন্য ঘুষ দাবি করায় সমাজসেবা বিভাগের দুজন মাঠকর্মীকে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে নাজেহাল করেছে ক্ষুব্ধ জনগণ। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে আটক কর্মচারীরা মুক্তি পান।
 
শনিবার উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের জালিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
 
জানা গেছে, সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা বিভাগের মাঠকর্মী পাইচানু মারমা ও বাহার উদ্দিন মজুমদার হাফছড়ি ইউনিয়নের জালিয়াপাড়াস্থ সমাজসেবা গণ-মিলনায়তন কেন্দ্রে গিয়ে ঋণের জন্য আবেদনকারীদের খবর দিয়ে আনেন। এ সময় ৩০-৪০ আবেদনকারী উপস্থিত হয়ে ঋণের টাকা দাবি করলে দুই মাঠকর্মী এতে অসন্মতি জানান। সমাজসেবা কর্মচারীরা ঋণ না দিয়ে আবেদনকারীদের জমাকৃত এক বছরের সঞ্চয়ের টাকা ফেরৎ নিতে বললে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন দুই মাঠকর্মীকে কেন্দ্রের অফিস কক্ষে আটকে রেখে নাজেহাল করেন এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে খবর দিয়ে আনতে বলেন। ক্ষুব্ধ লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আটক কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান। এ সময় কর্মচারীরা উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আব্দুল জলিলকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেনি। পরে খাগড়াছড়ি জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালককে ফোন করে ঘটনা জানানো হয় বলে আটক এক কর্মচারী জানান। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জালিয়াপাড়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাতে দুই কর্মচারী আটক রয়েছেন বলে জানান।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে দুপুর একটার দিকে তাদের ছেড়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
 
মাঠকর্মী পাইচানু মারমা জানান, আবেদনকারীরা জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে ঋণের দাবি জানান। কিন্তু ১৫ হাজার টাকার বেশি ঋণ দিতে অসন্মতি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদেরকে আটকে রেখে নাজেহাল করে।