লক্ষ্মীপুরে গভীর রাতে গ্যাস আসে, চলে যায় ভোরে

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ০১:৪৪

জেলা শহরে কয়েক মাস ধরে গ্যাসের তীব্র সঙ্কট চলছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক ও বাণিজ্যিক উভয় খাতের গ্রাহকরা। সাধারণ গ্রাহক, শিল্প কারখানা ও গ্যাস ফিলিং স্টেশনের মালিকরা বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়েও গ্যাস সমস্যার সমাধান পায়নি। অনেকে বাসা-বাড়িতে বিকল্প হিসেবে মাটির চুলা ব্যবহার করছে। প্রতিদিন রাত ১২টার পর গ্যাস এলেও চলে যায় ভোর ৬টার দিকে। এতে গৃহাস্থলির কাজে সমস্যায় পড়েছেন গৃহিণীরা।

 
অপরদিকে গ্যাস নির্ভর শিল্প কারখানার শ্রমিকরা কাজ করতে না পারায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে শত শত গ্রাহক। পৌর শহরের সাহাপুর, বাগবাড়ী, জেবি রোড, শিল্পকলোনী, ল’ ইয়ার্স কলোনী, মোবারক কলোনী, মদিন উল্যা হাউজিংসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকার কয়েকজন গৃহিণী জানান, সকাল ৬টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তারা। গ্যাস না থাকায় সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার তৈরি করা সম্ভব হয় না। মাটির চুলায় কাজ সারলেও নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হয় তাদের।
 
বাগবাড়ী এলাকার স্কুল শিক্ষিকা আমেনা বেগম জানান, রাত ৪টার সময় ঘুম থেকে উঠে ছেলে-মেয়েদের জন্য রান্না-বান্না করে সকালে আমাকে স্কুলে যেতে হয়। এভাবে কাজ করতে গিয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। বিসিক শিল্পনগরীর বেকারী কারখানার মালিক লোকমান হোসেন জানান, নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। ঠিকমতো পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না তারা।
 

লক্ষ্মীপুর বাখরাবাদ গ্যাস অফিস সূত্র জানায়, জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বার্নার রয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ মিলিয়ন ঘনফুট। একারণে গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীপুর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আলতাফ হোসেন গ্যাস সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদা মত গ্যাস উত্তোলন করা হলে এ সমস্যা থাকবে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।