খুনের পর আত্মহত্যা!

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৩:১০
 
কুষ্টিয়ায় ছুরিকাঘাতে সুজন মালিথা (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্র খুন হয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয় জনতা খুনী পলাশকে (২২) হাত-নাতে ধরে একটি ঘরের মধ্যে আটক করে রাখে। পরে ঐ ঘর থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পলাশের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রবিবার সকালে সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
 
নিহত সুজন জেলার মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারী কলেজের প্রথম ছাত্র ছিল। সে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের বোয়ালদা গ্রামের বদর মালিথার ছেলে।
 
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে আটটার দিকে সুজন প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার সময় তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তার গলা, পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সুজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিত্সক।
 
এদিকে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর স্থানীয় জনতা খুনী পলাশকে হাতে-নাতে ধরে ফেলে। পুলিশে সোপর্দ করার জন্য তাকে একটি ঘরের মধ্যে আটক করে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে সেখান থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পলাশের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পলাশ এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ার পর দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যা করেছে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। তবে সুজনের খুনী পলাশ মাদকাসক্ত ও মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে এলাকাবাসী জানায়।
 
এসময় স্থানীয়রা পুলিশের ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে স্কুলছাত্র মেহেদী হাসান আহত হয়। তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ কলেজ ছাত্র সুজনকে হত্যা ও হত্যাকারী পলাশ আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।