দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় সামনে রেখে এই সময়সীমা বেঁধে দিল ক্ষমতাসীন দলটি।
এর মধ্যে যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না তাদের বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ জানিয়েছেন। বুধবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকের পর একথা বলেন তিনি।
এদিকে নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে’।
কেন্দ্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরইমধ্যে অনেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন জানিয়ে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এখনও যারা রয়েছেন, তাদের আমরা চিঠি দিচ্ছি-২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য’।
‘এর মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে বলে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হবে’।
বুধবারের এই বৈঠকে হানিফ ছাড়াও আওয়ামী লীগের অপর দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ছিলেন।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৫ পৌরসভায় প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বৃহস্পতিবার।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইসিতে দল মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা দেওয়া হলেও দিন শেষে দেখা যায়, অনেক পৌরসভায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন একাধিক স্থানীয় নেতা।
