একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মো. ইউসুফ আলী ওরফে এ কে এম ইউসুফ আলম (৫৮) নামের এক বন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব-৮)। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে র্যাবের একটি দল সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের দুবলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। ওই কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হবে।
মো. ইউসুফ আলী ওরফে এ কে এম ইউসুফ আলম জামালপুরের চাঁনপুর হরিণাকান্দা গ্রামের প্রয়াত আব্দুল খালেক ওরফে খালেক মাস্টারের ছেলে। তিনি শরণখোলা রেঞ্জের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ওসি মো. শাহ আলম মিঞা বলেন, 'বন কর্মকর্তা এ কে এম ইউসুফ আলমের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তিনি পরোয়ানার খবর জানতে পেরে শরণখোলা ছেড়ে দুবলার ফরেস্ট ক্যাম্পে গিয়ে আত্মগোপণ করেন। পরে র্যাবের সহযোগিতায় তাকে সুন্দরবনের দুবলা এলাকা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়।'
র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির বলেন, 'শরণখোলা থানা পুলিশ বন কর্মকর্তা এ কে এম ইউসুফ আলমকে গ্রেফতারে সহযোগিতা চাইলে র্যাবের দুবলা ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।'
সহকারী পুলিশ সুপার ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আসামি এ কে এম ইউসুফ আলম ছাত্র ছিলেন। সে সময়ে তিনি আল বদর বাহিনীতে যোগ দিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার সুবর্ণখিলা এলাকায় গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালান। প্রাথমিক তদন্তে এসব ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা মিললে ২০১৫ সালের গত ১ এপ্রিল জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলার আটজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা করা হয়। তিনি ওই মামলার তিন নম্বর আসামি।'
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, 'এ কে এম ইউসুফ আলম ১৯৭৯ সালের ৯ আগষ্ট বন বিভাগে ফরেস্টার পদে যোগদান করেন। তিনি ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জে ডেপুটি রেঞ্জার হিসেবে যোগদান করেন। কিছুদিন আগে তিনি পদোন্নতি পেয়ে শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।' তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।
