মামা-ভাগ্নের ভোটযুদ্ধ

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৫:৪৭
'মামা ভাগ্নে যেখানে, আপদ নাই সেখানে।' এই প্রবাদটি ভুল হতে চলছে নীলফামারীর জলঢাকায় আসন্ন পৌর নির্বাচনে। এ নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বর্তমান মেয়র ইলিয়াস হোসেন বাবলু। সম্পর্কে সরকার দলীয় প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুরের ভাগ্নে বাবলু। 
 
সম্প্রতি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নের আশায় উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি পদটি বিসর্জন দিয়ে যোগদান করেন পৌর কৃষকলীগে। রাতারাতি এর সুফলও পান তিনি। কারণ পৌর নির্বাচন যাচাই-বাছাই কমিটির ৬জনের তালিকার মধ্যে তার নামটিও চলে যায় কেন্দ্রে। কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন যুদ্ধে জয়লাভ করে উপজেলা সাবেক যুবলীগ সভাপতি ও সদ্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগকারী আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর।
 
মনোনয়ন চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেও ইলিয়াস হোসেন বাবলু ইত্তেফাককে বলেছিলেন, 'দলীয় সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দল যাকে মনোনয়ন দিবে সেটাই মেনে নিব। দু’দিন না যেতেই ভোল পাল্টে ফেলেন এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হিসাবে অবস্থান নেন তিনি।' 
 
কেন তার এ অবস্থান ? জানতে চাইলে বর্তমান মেয়র বাবলু ইত্তেফাককে বলেন, 'জনগণের চাপের কাছে আমি পরাজিত হয়েছি। তাই বাধ্য হয়েই আমাকে এ অবস্থায় আসতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এখন কেউ আমাকে প্রত্যাহারের ব্যাপারে কিছু বলেনি।'
 
বাবলু বলেন, '২০১১ সালে যখন বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে আসনটি ছিনিয়ে এনেছিলাম সেই সময় তো তাদের দেখিনি যারা আজ দলের প্রার্থী হয়েছেন। আমার আমলে পৌরসভায় আমুল পরিবর্তন হয়েছে এবং বিজয়ের ব্যাপারে আমি (বাবলু) শতভাগ আশাবাদী।'
 
অপরদিকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত বাবলুর মামা আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপন করে নৌকার পক্ষে গণজোয়ারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন ওয়ার্ডে শেখ হাসিনার উন্নয়নের বার্তা পৌছে দিচ্ছেন বলে জানান তিনি (বাহাদুর)। 
 
ভাগ্নে সম্পর্কে তিনি ইত্তেফাককে বলেন '১৩ তারিখের আগেই ভাগ্নের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং সরকার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধের অবস্থান প্রত্যাহার করবেন এমন আশা করছি। দীর্ঘদিন থেকে যুবলীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। গত উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে উপজেলাটিতে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেছি। যে কোনো লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছি। তাই মনোনয়ন বোর্ডের যাচাই-বাছাই করে নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে এই পৌরসভায় মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। সবার সহযোগীতা এবং দোয়া থাকলে এবারও বিএনপি প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে জয় নিশ্চিত করার নজির স্থাপন করব।'