বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে তার গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের মূল সুর ছিল এমনই। বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির দু’জন সদস্যের কথা বলে এমন আভাস মিলেছে। তারা উভয়ে না প্রকাশ না করার অনুরোধ করে ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা জানি-সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে অধিকাংশ পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জয়ী হবেন। এ কারণে আমরা নির্বাচনে থাকার পক্ষে।’
এই দুই নেতা অবশ্য এ-ও বললেন, ‘তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে বাধ্য করে, তাহলে উদ্ভুত পরিস্থিতির আলোকে তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ বৈঠকে বিএনপি প্রধান এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন বলে জানান দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই দুই সদস্য।
জানা গেছে, বৈঠকে খালেদা জিয়া প্রতিটি পৌরসভার নির্বাচনের দিকে তীক্ষ নজর রাখতে দলীয় নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রত্যেক মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে যেন বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক সরাসরি যোগাযোগ থাকে, সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এজন্য বৈঠকে নির্বাচন তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ সেল গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সেল এখন থেকে শুরু করে ভোটের দিন ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে তা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরবে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাত্ক্ষণিকভাবে করণীয় সম্পর্কেও কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে যে কোনো অনিয়মের বিষয়ে সময়ে-সময়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করারও পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
রাত নয়টা থেকে শুরু হয়ে পৌনে ১১টায় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে পর্যবেক্ষণ সেল গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে আমাদের যথেষ্ঠ সংশয় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি প্রার্থীদের সরে যেতে চাপ দিচ্ছেন সরকার দলীয় প্রার্থীরা। দলীয় নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির অন্তরায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।’ এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যা যা করা দরকার তা করার আহ্বান জানান।
জানা গেছে, ৮টি বিভাগীয় পর্যবেক্ষণ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সেলে স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ভাইস-চেয়ারম্যান ও যুগ্ম-মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতাদেরও রাখা হবে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য- ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বেগম সারোয়ারি রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান প্রমুখ অংশ নেন।
