'টেহা থাকলে লেহাপড়া করতাম'

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৬:৪৭
 
শিশু শরীফ মিয়া। বয়স দশ কি বারো বছর হবে। বাবা অসুস্থ। তাই বাধ্য হয়ে এ বয়সেই কোমল হাতে ধরতে হয়েছে রিকসার শক্ত হাতল। চাপতে হচ্ছে রিকসার প্যাডেল। নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌর শহরের মদিনাবাগ মহল্লায় তাদের বসবাস। সারাদিন রিকসার প্যাডেল ঘুরিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে শরীফদের পাঁচ সদস্যের সংসারের খরচ।
 
শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে কথা হয় শিশু শরীফ মিয়ার সঙ্গে। সে এ প্রতিবেদকের কাছে তুলে ধরে তার স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নের কথা। তার সমবয়সী অন্য শিশুরা যখন বই হাতে নিয়ে স্কুলে যায়, তখন তার মনে খুব কষ্ট লাগে। তার ইচ্ছে ছিল বই-খাতা ও কলম হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার। লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার। কিন্তু বিধিবাম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করায়, তার সে স্বপ্ন যেন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কারণ দুই বোন ও মা-বাবাসহ পাঁচ জনের সংসারের খরচ তাকে রিকসার প্যাডেল ঘুরিয়ে একাই যোগাড় করতে হয়।
 কখনও স্কুলে যাওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে- শরীফ তার বুকে কষ্ট চেপে রেখে জানায়, স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন থাকলে কি অইব। সবার স্বপ্নই তো আর পূরণ অয় না। লেহাপড়া করলে অনেক টেহা লাগে। আমরার টেহা থাকলে, লেহাপড়া করতাম। কিন্তু সারাদিন রিকসা চালাইয়া সংসারের খাওনই যোগাড় করতে পারি না। লেহাপড়া করবাম কেমনে।
 
রিকসা চালাতে তোমার কষ্ট হয় না? জিজ্ঞেস করলে শরীফ উত্তরে বলে, কষ্টত অয়। কিন্তু কি করবাম। জীবন বাঁচানোর লাইগ্যেত রিকসা চালানি লাগবই। তাই এহন আর কষ্টরে কষ্ট মনে অয়না।
 
ঠিকমত রিকসার প্যাডেল নাগাল পায় না শিশু শরীফের পা দুটি। তবুও  সে রিকসা চালিয়ে পথ চলতে শুরু করে। কারণ ঘরে তার অসুস্থ্য পিতা।