মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামে অন্তর (৮) নামে এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রামবাসী প্রতিবেশী গোলাম মোস্তফার ছেলে সবুজ আলীকে (২৭) আটক করলেও পরে সবুজ কৌশলে পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা সবুজের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, দুর্বৃত্তদের কব্জা থেকে শিশু অন্তরকে উদ্ধার করতে পারলেও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে নেয়ার পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। নিহত অন্তর গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামের সৌদী প্রবাসী কাফিরুল ইসলামের ছেলে ও স্থানীয় বাওট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। বৃহস্পতিবার বিকালে নিখোঁজ হয়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী কমন রুমের ভিতর থেকে হাত পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় বস্তার মধ্যে থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০ টার সময় মারা যায় সে।
স্থানীয়রা আরো জানান, বাওট গ্রামের স্কুল পাড়া এলাকার সৌদী প্রবাসী কাফিরুল ইসলামের ছেলে অন্তর (৮) বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে ফুটবল মাঠে খেলার সময় একই পাড়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে চিহ্নিত
সন্ত্রাসী সবুজ হোসেন (১৮) তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে রেখে শিশু অন্তরকে বিদ্যুৎ সক দিয়ে অচেতন করার চেষ্টা করে। পরে তার অবস্থা আশংকাজনক ভেবে পার্শ্ববর্তী বাওট সোলাইমানীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী কমন রুমের একটি কক্ষের বেঞ্চের নিচে বস্তাবন্দি অবস্থায় ফেলে রাখে। বিকাল থেকেই এলাকার লোকজন মাইকিংসহ অনেক খোঁজাখুঁজি করে। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সন্ত্রাসী সবুজকে ওই কক্ষ থেকে জানালা ভেঙ্গে বের হতে দেখে স্থানীয়রা। পরে লোকজনের মধ্যে সন্দেহ হলে ওই কক্ষের তালা খুলে হাত পা ও চোখ-মুখ বাধা অবস্থায় বস্তাবন্দি শিশুটিকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে। মুমূর্ষ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে বামুন্দীর একটি ক্লিনিক ও সেখান থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, শিশু অন্তরকে হত্যার পর স্কুলের পাশে একটি টয়লেটের ঢাকনা খুলে ভিতরে গুম করার পরিকল্পনা করো হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া ওই কক্ষটির পাশের একটি টয়লেটের ঢাকনা ভাঙ্গা অবস্থায় পাওয়া গেছে। লোকজনের উপস্থিতির কারণেই মৃতদেহটি সেখানে ফেলতে পারেনি বলে স্থানীয়দের ধারণা।
স্থানীয়রা আরো জানান, সন্ত্রাসী সবুজকে বেশ কিছুদিন আগে চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযাগে মামলায় পুলিশ আটক করে জেলে পাঠায়। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে এসেছেন। তার বিরুদ্ধে
গাংনী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসী সবুজ তার পিতা গোলাম মোস্তফা ও মা নারগীছ খাতুন জনরোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে গেছে। এদিকে বিক্ষুব্ধ
এলাকাবাসী সন্ত্রাসী সবুজের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাংনী থানার ওসি আকরাম হোসেন জানান, মরদেহ কুষ্টিয়াতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সবুজকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
শিশু অন্তরকে হত্যা সন্দেহে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন
শিশু অন্তর হত্যার খুনি সবুজকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গ্রামবাসী।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টার সময় (মেহেরপুর-কুষ্টিয়া) গাংনী উপজেলার বাওট বাজারের ওপর দীর্ঘ এ মানববন্ধন করেন গ্রামবাসীরা। মানববন্ধনে গ্রামের কয়েক হাজার শিশু-কিশোর ও নারী পুরুষ অংশ নেয়। রাস্তার দু পাশে ও সড়ক অবরোধ করে প্রায় অধা ঘণ্টা ব্যাপী মানববন্ধন করেন তারা। আওয়ামী লীগ নেতা সাহাবুল ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত শিশুর পিতা কাফিরুল ইসলাম, মটমুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাশেম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আতু, সামসুল আমিন, নিয়ামত আলী প্রমুখ।
