শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস চট্টগ্রাম নগরীতে নীরব চাঁদাবাজি চলছে। ফুটপাতের ভাসমান দোকানদার, পাড়া-মহল্লার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় বড় শিল্পপতি ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না। সরকারি দল অথবা স্থানীয় ‘অমুক ভাই-তমুক ভাইয়ের’ নাম ব্যবহার করে নানা অজুহাতে সারা বছরই চাঁদাবাজি চলছে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দেয়া হলেও এতে দমে যায়নি দুর্বৃত্তরা। পুলিশের সহায়তা নিয়েই অনেক স্থানে চাঁদাবাজরা তাদের তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা ইত্তেফাকের কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে কথিত ‘বড় ভাইদের’ কেউ নিহত হলে অথবা কারাগারে গেলে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওই এলাকার আরেক বড় ভাইয়ের হাতে। চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ একেক সময়ে হাতবদল হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। চাঁদাবাজির শিকার কোনো ব্যক্তি সাধারণত সরাসরি পুলিশকে অভিযোগ করার সাহস পান না।
নগরীতে নানাভাবে চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নীরবে চাঁদা দাবি করে না পেলে অনেক সময় অস্ত্রের মহড়া দেয় সন্ত্রাসীরা। এজন্য দলের নাম ব্যবহার করা হয়। গত এক বছরে নগরীর বায়েজিদ, শেরশাহ কলোনি, পলিটেকনিক, নাসিরাবাদ স্যানমার মার্কেট, চমেক হাসপাতাল এলাকা, জিইসি মোড় এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় বেশ কয়েকবার রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সমপ্রতি শেরশাহ কলোনি এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় একজন নিহত হয়েছে। পুলিশ জানায়, চাঁদাবাজির সাথে জড়িত অনেকেই আবার আরবি এলাকায় রেলের টেন্ডারবাজিতে জড়িত। গত দুই বছর আগে সিআরবি এলাকায় টেন্ডারবাজদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশু আরমান ও সাজু পালিত নামে এক যুবক নিহত হয়। কয়েকদিন আগে সিআরবি এলাকায় টেন্ডারবাজির অন্যতম নিয়ন্ত্রক বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন ও তার তিন সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব।
চাঁদাবাজির জন্য এলাকা ভাগ করা থাকে। এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা। সংগঠনে এদের কোনো অবস্থান না থাকলেও দলীয় পরিচিতি ব্যবহার করে চাঁদা আদায় করা হয়। ফুটপাতের দোকান থেকে দৈনিক ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা নেয়া হয়। এছাড়া রাস্তার পাশের দোকান থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা নেয়া হয়। বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে জিনিসপত্র নেয়ার নাম করে আর কখনো টাকা পরিশোধ করে না স্থানীয় মাস্তানরা। দোকানদাররা এসবের বিরুদ্ধে কথা বলারও সাহস পান না।
নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতের এক ব্যবসায়ী জানান, ওই এলাকায় দরিদ্র হকারদের কাছ থেকে দৈনিক হাজার হাজার টাকা চাঁদা নেয়া হচ্ছে। কারা এসব করছে, পুলিশ তা জানলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য ইত্তেফাককে বলেন, কেউ যদি অভিযোগ না করে তাহলে পুলিশের পক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়। এ জাতীয় সমস্যা অনেক সময় মামলা মোকদ্দমা করে সমাধান করা যায় না। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা যায়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহস করে আমাদের কাছে অভিযোগ করতে হবে। পুলিশের যদি জড়িত থাকার অভিযোগ আসে সেটাও ছাড় দেয়া হবে না।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স, ভ্যাট দিয়ে নানাভাবে সরকারকে সহায়তা করে থাকে। তাই তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
