জীবন সংগ্রামে সফল এক নারীর নাম হাজেরা বিবি। ৫৭ বছর বয়সী হাজেরা প্রায় পনের বছর আগে স্বামীকে হারান। নাবালক দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে সংসারে হাল নিজেই ধরেন শক্ত হাতে। বিবাহযোগ্যা কন্যার বিয়ে দেন বাড়ির জমিটুকু বিক্রি করে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর মেয়ের জামাই মেয়েকে রেখে পালিয়ে যায়। সেই মেয়ের একমাত্র ছেলে নাতী শিপনকে নিয়ে এখন হাজেরার বসবাস শহরের তেঘর আলালপাড়াতে।
ছেলেমেয়েকে নিয়ে সংসারে দারিদ্র যখন চতুর্দিক অন্ধকার করে আসছিল তখন সামান্য টাকা নিয়ে শুরু করেন ভাপা-পিঠার ব্যবসা। সে ১০ বছর আগের কথা। এরপর থেকে হাজেরাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
জীবন যুদ্ধে হার না মানা হাজেরার পরিবার বর্তমানে ভাপা-পিঠার পরিবার নামে এলাকায় পরিচিত। হাজেরার ভাপা-পিঠা তুলনামূলক সু-স্বাদু হওয়াতে জেলা শহর জুড়ে হাজেরার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।
শহরের চিত্রা রোডের রেল লাইনের পাশে হাজেরার ভাপা পিঠার দোকান। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু করে রাত ১১ টা পর্যন্ত চলে পিঠা কেনা-বেচা।
শীতের মৌসুমে ভাপা-পিঠা অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। গড়ে প্রতিদিন ১০০০ পিঠা বিক্রি করে থাকেন হাজেরা। এতে চাল, আটা, গুড় সহ অন্যান্য খরচ বাদে ৫০০ টাকা লাভ থাকে বলে জানান তিনি।
মায়ের দেখাদেখি মেয়ে শিউলী ও শেফালী পিঠা তৈরি করে বিক্রি করেন। ছেলেও একটি চায়ের দোকান করেছে। ফলে হাজেরার পরিবার এখন আয়বর্ধন মূলক পরিবার। জামাই ছেড়ে যাওয়া মেয়ে শিউলী পিঠা বিক্রি করেন শহরের বৈরাগির মোড় নামক স্থানে। শিউলীর একমাত্র ছেলে শিপন নানী হাজেরার সঙ্গে পিঠা বিক্রিতে সহযোগিতা করে। শিপন স্থানীয় তেঘর শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র। পিতার আদর যত্ন না পেলেও লেখা পড়া শেষে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন শিপনের।
জমিজমা না থাকায় মেয়ে শেফালীর বাড়িতে বসবাস করেন হাজেরা বিবি।ভাপা পিঠা কিনতে আসা শীতল পেরেরা, দানিয়েল সরকার, সাগর কস্তা, সুশান্ত মল্লিক, শিক্ষক রায়হান আলী ও রফিকুল ইসলাম জানান হাজেরার ভাপা-পিঠা অন্যদের তুলনায় বেশি স্বাদের। সে কারনে এখান থেকে পিঠা কেনেন তারা।
উল্লেখ্য, শীত মৌসুমে জয়পুরহাট শহরের পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠে ভাপা পিঠার দোকান। জেলায় প্রায় ২৫শ পরিবার ভাপা পিঠা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে ছিন্নমূল নারীরা এ ব্যবসায় জড়িত।
