নরসিংদীর শিবপুরে আগাম হাইব্রিড জাতের ফুলকপি ও লাউয়ের বীজ এবং চারা কিনে চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী ও কৃষক।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার খড়কমারা সিএন্ডবি বাজারের ব্যবসায়ী মেসার্স মেহীদী হাসান নার্সারির মালিক মো. দুলাল মিয়া এ বছর শ্রাবণ মাসে নরসিংদীর ভেলানগরের নাহার বীজ ভাণ্ডারের মালিক মো. বাদল মিয়ার কাছ থেকে বীজ কিনে তা একশত কৃষকের মধ্যে বিক্রি করেছিলেন।
“কৃষিবিদ ফার্ম লিমিটেড” এর মোড়কে প্যাকেটজাত “হোয়াইট কুইন” ফুলকপির আগাম হাইব্রিড জাত ও আগাম হাইব্রিড জাতের লাউ “কৃষিবিদ সম্রাট” নামে বিক্রি করা হয়েছিল।IMG0
বীজ ব্যবসায়ী দুলাল কৃষকদের বলেছিলেন, “কৃষিবিদ সম্রাট লাউ বীজ বপনের ৬০/৬৫ দিন পর ফসল সংগ্রহ করা যাবে। ফলন হবে প্রতি একর জমিতে ২০/২৫ টন। কিন্তু একশত দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও গাছে লাউ ধরেনি। ২/১টি লাউ যা-ও ধরেছে তা অপুষ্ট। এছাড়া আগাম হাইব্রিড “কৃষিবিদ হোয়াইট কুইন” ফুলকপির চারা রোপনের ৪৫দিন পর ফলন সংগ্রহ করা যাবে বলে বলা হয়। ফলের ওজন হবে ৯শত থেকে ১ হাজার গ্রাম, প্রতি একরে ফলন হবে ১৫/২০ টন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও গাছে কোন ফুল ধরেনি। শুধু পাতা ও গাছে ভরে গেছে কৃষকের ক্ষেত।
তাছাড়া হাতে গোনা যে কয়েটি গাছে ফুল ধরেছে তা-ও ৫০/৬০ গ্রাম ওজন হবে বলে কৃষকরা জানান।
কৃষক মো. খোকা মিয়া বলেন, আমার ফুলকপি ক্ষেতের পাতা গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। লাউ চাষী কৃষক আ. হাই বলেন, আমার এক বিঘা জমিতে ৩০/৩৫টি লাউ ধরেছে। আমার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। আমি এখন দিশেহারা। IMG1
কৃষক তারা মিয়া জানান, এই ফুলকপি ক্ষেতের পাতা কেটে নিয়ে এলাকার মানুষ গরুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করছে।
এই তিন কৃষক চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি ও লাউ চাষ করে প্রায় ৩ লাখ টাকা ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে জানান।
এ ব্যাপারে বীজ ও চারা ব্যবসায়ী মেসার্স মেহীদী হাসান নার্সারীর মালিক মো. দুলাল মিয়া বলেন, ৩৫ বছর যাবৎ আমি সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি। আমি কৃষকদের সাথে কোন প্রতারণা করিনি। আমাকে ঠকিয়েছে নরসিংদীর ভেলানগরের নাহার বীজ ভাণ্ডারের মালিক মো. বাদল মিয়া “কৃষিবিদ ফার্ম লিমিটেড” এর নিন্মমানের বীজ দিয়ে।
